মো. হাবিবুর রহমান ঃ
স্কুলের
পুকুরপাড় ও চলাচলের রাস্তা ভাঙন থেকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক
কারবারি চক্রের নৃসংস হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় তিন বাসিন্দা। ঘটনার
একমাস পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্তকোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
চিহ্নিত আসামিরা প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায়
কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার টনকি ইউনিয়নের বাইড়া গ্রামে এখন চরম আতঙ্ক ও
ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাইড়া আরিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের
পুকুরসংলগ্ন দক্ষিণ কোণে একদল যুবক দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়াভাবে লাফিয়ে গোসল
করছিল। এতে পুকুরের পাড়সহ সংলগ্ন চলাচলের রাস্তাটি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হতে
থাকে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা এতে বাধা দিলে
ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই চক্রটি। এরই জের ধরে গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় বাইড়া বাজারে
পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো ছুরি নিয়ে অতর্কিত কোপাতে থাকে।
হামলায় মৃত মজিদ মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া, বাবুল মিয়ার ছেলে এমরান হোসেন ও
মৃত খলিল মিয়ার ছেলে অলি মিয়া গুরুতর আহত হয়।
হামলার তীব্রতা এতটাই
ভয়াবহ ছিল যে, এক ভুক্তভোগীর ঠোঁট থেকে গাল পর্যন্ত কেটে গিয়ে ভেতরে-বাইরে
২৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। অন্য একজনের মাথায় চাইনিজ কুড়ালের কোপে লাগে ৭টি
সেলাই। এছাড়া ভুক্তভোগীদের চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়েরও
অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় গেলে পুলিশ
মামলা নেয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ২৬ জুলাই অলি মিয়া বাদী হয়ে কুমিল্লার
আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বাঙ্গরা বাজার থানায় নিয়মিত
মামলা রুজু করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, বাইড়া গ্রামের নবী মিয়া,
খোকন মিয়া, আব্দুর রহিম, কুদ্দুস মিয়া, জসিম উদ্দিন, আতিক মিয়া, দুইড়া
গ্রামের হৃদয় এবং দেবিদ্বার উপজেলার শান্তিনগর গ্রামের বাছির মিয়া।
মামলা
হওয়ার পরও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা
তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে যেকোনো
মুহূর্তে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা।
বাঙ্গরা বাজার
থানার ওসি শফিউল আলম দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে জানান, কোর্টের নির্দেশে
মামলাটি এফআইআর করা হয়েছে। এটি মারামারির ঘটনা হওয়ায় সার্বিক বিষয়
যাচাই-বাছাই করে আসামি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশি অভিযান
অব্যাহত রয়েছে।
তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গ্রামে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
