শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
চট্টগ্রামে ৯৯ ভরি আত্মসাৎকৃত সোনা উদ্ধার, গ্রেফতার ৬
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০১ এএম |


চট্টগ্রাম নগরের একটি জুয়েলার্স থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫টি সোনার চুড়ি উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ। উদ্ধার করা সোনার চুড়িগুলোর ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি, যা প্রায় ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জুয়েলার্সের সেলসম্যান রোমেন দে (৩৬) এবং সোনা বন্ধক রাখা ব্যবসায়ী শ্যামল সিংহ (৪৭) রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধার ও গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, পাঁচলাইশের প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক বিপ্লব বসাক (৫৩)। সেখানে প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন রোমেন দে।
গত ১৪ আগস্ট দুপুরে দোকানের কর্মীরা মজুত সোনার হিসাব মেলাতে গিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি মালিককে জানানো হলে তিনি দোকানে আসার পথে রোমেন দে বিষয়টি বুঝতে পেরে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান।
পরে মজুত যাচাই করে দেখা যায়, রোমেন দের দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি সোনার চুড়ি নেই। এসব চুড়ির পরিবর্তে সেখানে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছে। চুড়িগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।
এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন জুয়েলার্সের মালিক। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ আগস্ট রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা সোনার চুড়িগুলো বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালীর কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স থেকে সাতটি সোনার চুড়ি উদ্ধার করা হয়। এসব চুড়ির ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম।
পরে শ্যামল সিংহকেও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালীর বিভিন্ন সোনা বন্ধকী প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৩৬টি চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি এবং চারজন বন্ধকী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ১৭টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে রোমেন দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার দুটি এবং চকবাজারের দুটি সোনা বন্ধকী প্রতিষ্ঠান থেকে আরও নয়টি চুড়ি উদ্ধার করা হয়।
সব মিলিয়ে এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেফতার এবং ৫৫টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা চুড়িগুলোর মোট ওজন ১ হাজার ১৫৮ দশমিক ৩৩ গ্রাম বা ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২