নির্ধারিত
গন্তব্যে না নিয়ে ট্রাক ভর্তি রড ও গ্যাস সিলিন্ডার চুরির অভিযোগে ৫ জনকে
গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১২ অগাস্ট থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম,
মাগুরা, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশ
তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রিয়াদ হোসেন, হাদিছ মোল্লা,
আবুল বাশার, আল আমিন ও মাহিন খান। এর মধ্যে রিয়াদ, হাদিছ ও বাশারকে ট্রাকসহ
রড চুরির অভিযোগে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ এবং আল আমিন ও মাহিনকে ট্রাকসহ
গ্যাস সিলিন্ডার চুরির অভিযোগে কর্ণফুলী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ
জানায়, গত ১৪ অগাস্ট রড প্রস্তুতকারী বিএসআরএমের জোরারগঞ্জের কারাখানা
থেকে তাদের নিজস্ব ট্রাকে করে বিভিন্ন ধরনের ১৩ টন রড নিয়ে সুনামগঞ্জের
উদ্দেশ্যে রওনা করেন প্রতিষ্ঠানটির চালক রিয়াদ ও তার সহকারী হাদিছ মোল্লা।
কিন্তু তারা রডগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেন।
নির্ধারিত
সময়ে ট্রাকটি সুনামগঞ্জে না যাওয়ায় ও চালককে না পেয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ
থেকে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। পরে পুলিশ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ,
মাগুরা, ফরিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ট্রাক ও রড উদ্ধার করে।
মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা জোরারগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চালক ও তার সহকারী রডগুলো গন্তব্যে পৌঁছে না
দিয়ে বিক্রি করে দেয়। পরে তারা আত্মগোপনে চলে যায়।
“বুধবার বারৈয়াহাট
এলাকা থেকে ট্রাক চালক রিয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে
মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে আবুল বাশরকে আটকের
পর চুরি যাওয়া রডের সন্ধান পাওয়া যায়। মাগুরার মোহাম্মদপুর বাজারে একটি রড
বিক্রির দোকান ও এক ব্যক্তির বাসা থেকে ১২ টন ১০০ কেজি রড ও ফরিদপুরের
মধুখালি উপজেলা থেকে রড বহনকারী খালি ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।”
অন্যদিকে
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরাতে এসে ট্রাকসহ সিলিন্ডার
গায়েবের অভিযোগে আল আমিন ও মাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্ণফুলী থানার ওসি
ইখতিয়ার উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ট্রাক চালক আল আমিন
ঢাকার ডেমরা এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের ৫৭৪টি খালি সিলিন্ডার রিফিল করতে
চট্টগ্রামের প্ল্যান্টে এনেছিলেন। কিন্তু সেগুলো নিয়ে ফিরে না গিয়ে
সিলিন্ডার ও ট্রাকটি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেন।
“গত ১২ অগাস্ট থেকে
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলা থেকে
৯৬টি গ্যাস সিলিন্ডার ও কক্সবাজার থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।”
সিলিন্ডার
চুরির ঘটনায় এর আগে তিন জনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
পাঠানো হয় বলে তথ্য ওসি। তিনি জানান, নতুন করে চালক আল আমিন ও তার সহযোগী
মাহিনকে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে ট্রাক এবং
সিলিন্ডার বিক্রির তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ঢাকার ডেমরায়
অবস্থিত সিলিন্ডার বিক্রি প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. সোহেল বলেন, “আমরা
আইগ্যাসের ডিলার। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আমাদের রিফিল প্ল্যান্ট আছে। গত ১২
অগাস্ট সিলিন্ডারগুলো রিফিলের জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়। কিন্তু এরপর থেকে
ট্রাক ও চালকের হদিস না পাওয়ায় ১৭ তারিখ মামলা করা হয়।”
ওসি ইখতিয়ার
জানান, উদ্ধার করা সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে ১৬টি আনোয়ারা উপজেলার বড় উঠান ও
৮০টি অনোয়ারা উপজেলা হাসপাতাল সড়কের একটি দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়।
ট্রাকটির চাকা খুলে কক্সবাজারের ঈদগাঁ এলাকায় ও ট্রাকটি উখিয়ায় বিক্রি করে
দিয়েছিলেন চালক।
