
ডারউইনে
ইতিহাস গড়ার পর এবার ম্যাকাইয়ে আরেকটি অধ্যায়ের অপেক্ষা। সিরিজে ১-০
ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের
হাতছানি। আর ম্যাকাইয়ের বাতাস, বাউন্স ও পেস-সহায়ক উইকেট সেই স্বপ্নে যোগ
করছে বাড়তি রোমাঞ্চ।
দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তাই
স্বাভাবিকভাবেই এসেছে একাদশের সমীকরণ। বিশেষ করে চার পেসার খেলানোর
সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত এখনই সেই পথে হাঁটছেন
না। তাঁর পছন্দ আপাতত তিন পেসার ও দুই স্পিনারের ভারসাম্য।
চার
পেসারের সম্ভাবনা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘উইকেট দেখে ভালো মনে হয়েছে। আমরা এখানে
যে উইকেটে অনুশীলন করেছি সেখানে বাউন্স একটু বেশি ছিল। পাঁচ পেসার
স্কোয়াডে আছে, সবাই রেডি আছে, ইতিবাচক দিক হচ্ছে দুইজন স্পিনার আছে যেকোনো
কন্ডিশনে ভালো বল করে। ফলে আমার মনে হয় যেহেতু আরও সময় আছে সকালে এসে
আরেকবার উইকেট দেখে দলের জন্য যে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয় তা নিব
ইনশাআল্লাহ।’
ম্যাকাইয়ের বাতাস পেসারদের জন্য বাড়তি অস্ত্র হতে পারে
বলেও মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, ‘বাতাসের জন্য বোলাররা
সাহায্য পাবেই, সুইং কিছুটা পেতে পারে। বাতাস যদি কাজে লাগাতে পারে
বোলাররা, অবশ্যই বোলারদের জন্য ভালো সুযোগ থাকবে।’
ডারউইনে হাসান
মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে তিন পেসারের আক্রমণ
সামলেছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে সেই তালিকায় শরিফুল ইসলাম যোগ হওয়ার সম্ভাবনা
আছে। বাঁহাতি এই পেসারকে নিয়ে শান্তর আস্থার কথাও স্পষ্ট, ‘শরিফুল ভালো
আছে সুস্থ আছে। ভালো বোলিংও করছে। আশা করি যদি তার সুযোগ আসে সে ভালো করবে।
উইকেট দেখে আমার ভালো উইকেট মনে হয়েছে। স্পোর্টিং উইকেট মনে হয়েছে। সকালে
আবহাওয়া কেমন থাকে এটা হচ্ছে জরুরি। সকালে উইকেট দেখেই টসের সিদ্ধান্ত আমরা
সবসময় নেই। ফলে কালকে সকালে উইকেটটা দেখে আমরা টসের সিদ্ধান্তটা নেব।’
তবে
চার পেসারের বদলে তিন পেসার ও দুই স্পিনারের সমন্বয়েই আপাতত বেশি স্বস্তি
শান্তর। তিনি বলেন, ‘আসলে আমি অনেকবার বলেছি আমাদের স্পিন আক্রমণ অনেক
অভিজ্ঞ। তারা যেকোনো কন্ডিশনে বল করতে পারে এবং তারা জানে কোথায় কীভাবে বল
করতে হয়। আমার সেই লাক্সারি আছে তিন পেসার দুই স্পিনার খেলানোর। আমি এই
কম্বিনেশনে খুশি। অবশ্যই পেসাররা ভালো করছে। যদি আমাদের চার নম্বর পেসার
দরকার হয়, একাদশের বাইরের দুইজন পেসারই প্রস্তুত আছে ম্যাচ খেলতে। তবে এই
মুহূর্তে আমি ৩ পেসার এবং ২ স্পিনার নিয়ে খুশি আছি।’
ডারউইনের ৯
উইকেটের জয় যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, সেটি অস্বীকার করছেন না শান্ত। তবে
সেই জয়কে পেছনে ফেলেই ম্যাকাইয়ে নতুন শুরু করতে চান তিনি। শান্তর ভাষায়,
‘এরকম জয় তো অবশ্যই আত্মবিশ্বাস দেবে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেখান থেকে
ফেরত আসা খুব জরুরি। দুই দিনের অনুশীলনে সেখান থেকে ভালোভাবেই প্লেয়াররা
ফিরে এসেছে। ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। অইটা (ডারউইনের জয়) এখন অতীত হয়ে
গেছে। এই কন্ডিশনে কীভাবে মানিয়ে নিতে পারি এগুলো আলাপ হয়েছে। আশা করি
প্লেয়াররা সেখান থেকে বের হয়ে এখানে আবার নতুন করে শুরু করবে।’
ডারউইনে
অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে ইতিহাসের দরজা খুলেছে বাংলাদেশ। এবার সেই দরজা দিয়েই
সিরিজ জয়ের মঞ্চে পা রাখার পালা। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু আগামীকাল, ২২ আগস্ট
ম্যাকাইয়ে।
