বিশ্ব
ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ আসর অলিম্পিক। এই প্রতিযোগিতার টিম ডিসিপ্লিনে
বাংলাদেশ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। তাই এশিয়ান গেমসই বাংলাদেশের
হকির জন্য বড় ক্ষেত্র। জাপানে অনুষ্ঠিতব্য নাগোয়া এশিয়ান গেমসের জন্য
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন আজ ১৮ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। এই দলে
রয়েছেন বাংলাদেশ হকির সুপারস্টার রাসেল মাহমুদ জিমি ও তার ছোট ভাই খালেদ
মাহমুদ রাকিন।
১৯৮২ সালে এশিয়ান গেমসে ইমতিয়াজ সুলতান জনি ও এহতেশাম সুলতান দুই ভাই ফুটবল ও হকিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
আব্দুর
রাজ্জাক সোনা মিয়া ছিলেন সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ। তার দুই সন্তান অনেক দিন
থেকেই হকি খেলছে। তবে দুই ভাই কখনও এক সঙ্গে জাতীয় দলে খেলেননি। আজ চূড়ান্ত
দলে জায়গা পাওয়ার পর দুই ভাইয়ের-ই আক্ষেপ, ‘এমন মুহূর্তের অপেক্ষা ছিল
অনেক দিনের। বাবা যদি বেঁচে থাকতেন!’
রাসেল মাহমুদ জিমি বাংলাদেশ তো
বটেই এশিয়ার অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়দের একজন। গত এক বছর তাকে ট্রায়ালেও
ডাকেনি ফেডারেশন। ফেডারেশনের কমিটি পরিবর্তন হওয়ার পর আবার জিমি দলে ডাক
পেয়েছেন। কয়েক দফা দল সংক্ষিপ্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত দলেও নাম রয়েছে। এ নিয়ে
তার প্রতিক্রিয়া, ‘আবার নিজেকে প্রমাণ করে দলে আসতে পারলাম। ২০১৪ সালের
এশিয়ান গেমসে খেলতে পারিনি, না হলে এটি ষষ্ঠ এশিয়ান গেমস হতো। নিজের সেরাটা
দিয়ে চেষ্টা করব দলকে দেওয়ার।’
এই গেমস বাংলাদেশের হকির জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন জিমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ছয়ের মধ্যে থাকতে পারি,
তাহলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার সুযোগ পাওয়া যাবে। অলিম্পিক-বিশ্বকাপ
বাছাইসহ অনেক কিছুই নির্ভর করছে এই গেমসের ওপর। এছাড়াও আমরা প্রীতি ম্যাচ
কারো সঙ্গে খেলতে চাইলে তারাও এই গেমসের ফলাফল বিবেচনা করেই সম্মত বা
প্রত্যাখ্যান করবে। আমাদের দল ভালোই, বিদেশি ক্লাব ও দলের সঙ্গে ম্যাচ
খেলতে পারলে আরও ভালো হবে প্রস্তুতি।’
জিমির ছোট ভাই খালেদ মাহমুদ রাকিন
জিমির সঙ্গে মোহামেডান, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন দলের হয়ে খেলেছেন। এবারই প্রথম
সুযোগ হয়েছে জাতীয় দলের জার্সিতে ভাইয়ের সঙ্গে খেলার। তাই বেশ উচ্ছ্বসিত
রাকিন। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের খেলা দেখেই বড় হয়েছি। ভাই সবসময় পরামর্শ দেন।
দেশের জন্য খেলতে পারা বড় সৌভাগ্যের। ভাইয়ের সঙ্গে এক সঙ্গে খেলব এটা বাড়তি
অনুপ্রেরণা।’
অ-২১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশর অধিনায়কত্ব করা মেহরাব হোসেন
সামিন চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি, রয়েছেন স্ট্যান্ডবাই হিসেবে। মিডফিল্ডে
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ফজলে হাসান রাব্বিও নেই। রাব্বির বাদ পড়া নিয়ে দলের
জার্মান হেড কোচ গেরহার্ড পিটারের প্রতিক্রিয়া, ‘আমি কোনো নাম বা ক্লাব
দেখে খেলোয়াড় বাছাই করি না। দলের প্রয়োজন ও যোগ্যতা অনুযায়ীই নিয়েছি।
সেন্টার মিডফিল্ডে আমার কাছে সাজু ও রোমান আছে। সে (রাব্বি) তাদের চেয়ে
এগিয়ে নয় এবং রাইট হাফ ও ইনারে রয়েছে সোহান এবং বাবু। তাদেরকে সে পেছনে
ফেলতে পারেনি।’
রাসেল মাহমুদ জিমি গত দুই দশক তো বটেই বাংলাদেশের হকির
অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে স্বীকৃত। সেই জিমিকে ফেডারেশনের বিগত
কমিটি ডাকেনি। নতুন কমিটি দলে নতুন করে ডেকেছে এবং পিটারও চূড়ান্ত দলে
রেখেছেন। জিমিকে রাখার কারণ হিসেবে পিটার বলেন, ‘জিমি এখনও বাংলাদেশের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাকে আমি মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড দলের প্রয়োজনে যে
কোনো জায়গায় ব্যবহার করতে পারি। সে দারুণ টিমমেট। সবকিছু মিলিয়ে এখনও সে
দুর্দান্ত।’
বাংলাদেশের হকিতে দল নির্বাচনে ক্লাবের প্রাধান্য ও
কর্মকর্তাদের পছন্দ-অপছন্দের বলি হন অনেক খেলোয়াড়। এক যুগের বেশি সময়
বাংলাদেশের হকির সঙ্গে নানাভাবে জড়িয়ে থাকা পিটার নিজেকে সেই সবের উর্ধ্বে
রাখছেন, ‘আমি যখন বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছাড়ি, তখন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে
বাংলাদেশ ৫-৬ গোলের ব্যবধানে জিতত। এখন তো শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের সঙ্গে ফাইট
করে। এর মানে কমেছে এবং এর কারণ বিগত সময়ে বাংলাদেশ দল নির্বাচন সঠিক হয়নি
নানা স্বার্থ বিবেচনায়। আমি কোনো ক্লাব বা কিছু স্বার্থ দেখি না। কারও
অনুরোধও শুনি না।’
কোচ পিটার দল নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বুলি
আওড়ালেও সিলেকশন কমিটির কর্মকর্তা ও কোচের বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে
সমন্বয়হীনতা রয়েছে। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে জিমিরা যখন অনুশীলন করছিলেন
তখন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেকশন কমিটির সদস্য আরিফুল হক প্রিন্স
মিডিয়ায় বলছিলেন, ‘কোচিং স্টাফ এই দল নির্বাচন করেছে।’
অনুশীলন শেষে
কোচের কাছে দল নির্বাচন প্রক্রিয়া নিতে জানতে চাইলে প্রথমে বলেছিলেন,
‘সিলেকশন কমিটিই এটি শতভাগ নির্বাচন করেছে।’ প্রিন্সের বক্তব্য অনুযায়ী
সিলেকশন কমিটি সম্পৃক্তই নয় আর কোচ বলছেন শতভাগ তারাই করেছে। এটি পুনরায়
জানতে চাইলে পিটার বলেন, ‘অবশ্যই, তারা সম্পৃক্ত। আমি দল নির্বাচনে তাদের
অবহিত করেছি, তারা এতে সম্মত হয়েছে। সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান সাজেদ
আদেলের মন্তব্য প্রিন্সের চেয়ে একটু ভিন্ন, কোচই করেছে আমরাও সম্পৃক্ত
ছিলাম।’
১৮ সদস্যের মূল স্কোয়াড: বিপ্লব কুজুর (গোলকিপার), আশরাফুল
হক সাদ (গোলকিপার), মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. হোজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম,
রেজাউল করিম বাবু, মো. রোমান সরকার, মো. শাহিদুর রহমান সাজু, মো. ওবায়দুল
হোসেন জয়, মো. দ্বীন ইসলাম ইমন, মো. খালেদ মাহমুদ রাকিন, পুষ্কর ক্ষিসা
মিমো, সোহানুর রহমান সবুজ, ফরহাদ আহমেদ শিতুল, মাহবুব হোসেন, মো. মাইনুল
ইসলাম, রাসেল মাহমুদ, মো. রাকিবুল হাসান।
স্ট্যান্ড-বাই খেলোয়াড়: এম এম মেহরাব হাসান সামিন, মো. আবেদ উদ্দিন, নুরুজ্জামান নয়ন।
