কুমিল্লার
বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করানোর
আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
(বিজিবি)। সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে ভারতীয় নাগরিকদের জড়ো করে
রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির পক্ষ থেকে বাড়ানো
হয়েছে নজরদারি ও টহল।
স্থানীয় ও সীমান্তসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানায়,
ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত সীমান্তের বিভিন্ন
এলাকায় এক হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে জড়ো করে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।
সুযোগ বুঝে তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হতে পারে বলে
আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির সদস্যরা অতিরিক্ত
সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
সম্প্রতি ভোররাতে বিএসএফের মাধ্যমে একাধিক
ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে আটক করার পর পরবর্তী সময়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ
উপজেলার মথুরাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা
হয়েছে।
এদিকে গত ২৬ জুলাই কুমিল্লার সালদানদী সীমান্তে এক নারী ও তিন
শিশুসহ চারজনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি
সদস্যদের তৎপরতায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে
দেওয়া হয়নি।
সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন বিজিবি সদস্য জানান, জনবল
সংকটের কারণে কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় অল্পসংখ্যক
সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ
ঠেকাতে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন হওয়ায় দায়িত্ব পালনে চাপও বাড়ছে।রাস্তা ঘাট
নেই,বিদ্যুৎ নেই পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ঢালু পথ বেয়ে নজরদারি করতে
হয়,ভারতের মতো সুগম রাস্তা আর কাটা তারের বেড়া জনবল থাকলে ভারতীয়
মানুষপুশিং,মাদকদ্রব্য ঢুকা জিরো টলারেন্স নিয়ে আসতো এমন তথ্য
একজন
বিজিবি সদস্য জানান, কোনো কোনো এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার সীমান্ত অংশে
মাত্র ৭/৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। চোরাকারবারিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ
ও অন্যান্য দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে অনেক সময় দায়িত্ব ঝুঁকিপূর্ণ
হয়ে ওঠে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠকেও
অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র
জানিয়েছে। বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পক্ষ
থেকে সতর্ক অবস্থানের কথা জানানো হয়।
কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ
পয়েন্টগুলোতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে সীমান্ত
পাহারা দেওয়া হচ্ছে। কোনো ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে
না।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত
সপ্তাহে কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নে সফরকালে বিজিবির উত্তর-পূর্ব
রিজিয়ন (সরাইল) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
জানান, ময়মনসিংহ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্তে
বিজিবির তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় সদস্যদের সর্বোচ্চ
সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এবিষয়ে কুমিল্লা
অঞ্চলের দায়িত্ব থাকা সুবেদার জাফর আহমেদ জানান বিজিবি ভারতীয় নাগরিক দের
পুশিং ঠেকাতে সর্তক রয়েছে। তবে বিভিন্ন কৌশলে অবলম্বন করে মাদককারবারীরা
বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কিছু কিছু মাদকসহ বিভিন্ন পন্য প্রবেশ করাচ্ছে। বিজিবি
টের পেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
