
নরসিংদী
কারাগার থেকে পালিয়ে থাকা ১৬৬ জনের কোনো তথ্য কারা অধিদপ্তরের কাছে নেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া দুই হাজার ২৪৭
জনের মধ্যে ৬৯০ জন বন্দি এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক
সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
কারা
মহাপরিদর্শক জানান, যারা পলাতক রয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের কোনো তথ্য
কারা অধিদপ্তরের কাছে নেই। তারা সবাই নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় গাজীপুর, নরসিংদীসহ এক ডজনের বেশি কারাগারে হামলা ঘটে। সেই সময় পলাতক বন্দিদের মধ্যে ৯ জন জঙ্গিও ছিলেন।
সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, সবশেষ জুয়েল নামে একজন গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত দুজন জঙ্গি পলাতক রয়েছেন।
কারাগারগুলোতে
ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “দেশে
৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার।
কিন্তু আজ পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার।”
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ
সরকারের পতনের পর দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে
আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। মৃতদের স্বজন ও
আওয়ামী লীগের তরফে দাবি করা হচ্ছে, নির্যাতনের কারণে কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা
ঘটছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন,
“আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে
বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
“আর ২০২৫ সালে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, আর এবছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।”
কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
এক সাংবাদিক বলেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে কথা বলছেন।
জবাবে
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “মোবাইলে কথা বলছে, এটা আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে
পারি না যে-কথা বলছে না। তবে আমরা কোনোভাবে ছাড় দিচ্ছি না।
“গত এক বছরে তিন হাজারের উপরে বেশি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। এটা ধীরে ধীরে কমে আসছে।”
বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানান মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি
বলেন, “এই বন্দিদের মধ্যে ১৭০ জন রয়েছেন, যাদের সাজা শেষ হয়ে গেছে; কিন্তু
দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এম্বাসি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে
তাদের নিজ দেশে পাঠানোর যোগাযোগ চলছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে মোতাহের হোসেন
বলেন, “গত দুই বছরে বিদেশি প্রায় ১৭টি মৃতদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া
হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।”
বিধি অনুযায়ী বিদেশিদের মরদেহ ৩ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ রাখা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে ৩টি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত আছে।”
যদি
কোনো পরিবার বা বিদেশি প্রতিনিধি মরদেহ নিতে না আসে, তবে ডিএনএ সংরক্ষণ
করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক।
