বাংলা
ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষায় দক্ষ করে তুলতে দেশের ৩০টি
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের
চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বাড়ানো এবং দক্ষ
জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এ কার্যক্রম চালুর
লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ইউজিসিতে তৃতীয় ভাষা
শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের আট বিভাগের কোনো
অঞ্চল যাতে এ উদ্যোগের বাইরে না থাকে, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, ভাষা
নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো এবং অবস্থান নির্ধারণে একটি কমিটি
পুনর্গঠন করেছে ইউজিসি। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনশক্তির চাহিদা, স্থানীয়
মানুষের আগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়ে
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষা চালু হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
ইউজিসি
চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদা
বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আটটি ভাষা শেখানোর
পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা
বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি হবে। দেশে ও বিদেশে
কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন
ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অথবা বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও
অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ
বলেন, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যসহ
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি,
তা চিহ্নিত করা হবে। সেই চাহিদার ভিত্তিতে ভাষা নির্বাচন এবং
বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের একটি বাস্তবসম্মত ম্যাপিং তৈরি করা হবে।
ইউজিসির
পরিকল্পনায় তৃতীয় ভাষা হিসেবে আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান,
স্প্যানিশ ও ইতালীয়—এই আটটি ভাষা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে আরবি,
জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয় ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা
হয়েছে। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষা চালু হবে, তা সংশ্লিষ্ট এলাকার
চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোর ভিত্তিতে
চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে
ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধিক ১৩টি
ভাষা শেখার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, পরিচালিত কোর্স,
প্রশিক্ষক ও জনবল কাঠামো এবং অবকাঠামো পর্যালোচনার পাশাপাশি কোথায় নতুন
কেন্দ্র স্থাপন প্রয়োজন, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।
সভায় ইউজিসির সদস্য
অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো.
মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ,
ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা
উপস্থিত ছিলেন।
