দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কাতার থেকে সব ধরনের সহযোগিতার ‘নিশ্চয়তা’ পাওয়ার কথা বলেছে সরকার।
কাতারের
রাজধানী দোহায় বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ
মোহাম্মদ বিন আবদুররাহমান বিন জসিম আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বৈঠকে কাতারের তরফে এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার
কথা বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়
আলোচনা করতে গিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ
হিসাবে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে, বিশেষ করে
বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, সম্ভাব্য সব সহযোগিতার
নিশ্চয়তা তিনি দিয়েছেন।”
এদিকে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু উল্লেখ না করে অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা
হওয়ার কথা বলা হয়েছে কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে
বলা হয়, দ্বিপাক্ষীয় সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এবং অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট
বিষয়ের পাশাপাশি সর্বশেষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সে
সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পন্থা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কাতারের নেতৃত্বের
প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। কাতারের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন তিনি এবং
পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দেশটির
গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
এ সময় পরস্পরের জন্য সুবিধাজনক সময়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খলিলুর রহমান।
বৈঠকে
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশেনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে
অভিনন্দন জানানোর কথা বলেছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি
সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে খলিলুর রহমানকে কাতারের সমর্থন ও
সহযোগিতার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ
মোহাম্মদ।
পরে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ
আল-মুরাইখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ সময় তারা
পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকগুলোতে
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর,
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ দুই দেশের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কাতারে
বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের সফরের প্রথমদিন মঙ্গলবার
কাতারের অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল কুওয়ারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে বিনিয়োগ, ব্যাংকিং ও অন্যান্য খাতে পারস্পরিক
সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এরপর খলিলুর রহমান কাতার অ্যানার্জির
সদরদপ্তরে দেশটির জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল কাবীর সঙ্গে বৈঠক
করেন। এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতা, বিশেষত এলএনজি
সরবরাহ খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ
দূতাবাস।
