কার্গো সংকটে
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস
সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বুধবার রাত ৮টায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমে
দৈনিক ৫৬১ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে।
পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
বলেছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনালটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে নয়, সরবরাহযোগ্য
এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী,
বুধবার দুপুর ১২টায় দুই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৬৬১ মিলিয়ন
ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ হচ্ছিল। রাত ৮টায় তা ৫৬১ মিলিয়ন ঘনফুটে নামে।
দুপুরে
দেশীয় ক্ষেত্রগুলোর ১ হাজার ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুটসহ মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২
হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট। রাত ৮টায় দেশীয় সরবরাহ কমে ১ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন
ঘনফুট হয়। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ২ হাজার ১৮৫
মিলিয়ন ঘনফুটে।
এ হিসাবে আট ঘণ্টায় মোট সরবরাহ কমেছে ১০৪ মিলিয়ন ঘনফুট বা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
এর
আগে সোমবার রাত ৮টায় এলএনজি সরবরাহ ছিল ৬৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সময়ের
হিসাবে দুই দিনের ব্যবধানে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ১০৫ মিলিয়ন ঘনফুট বা
১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০
মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে বুধবার রাত ৮টায় চাহিদার প্রায় ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ
সরবরাহ করা গেছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
দুই ভাসমান
টার্মিনালের সম্মিলিত সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
বুধবার রাতের এলএনজি সরবরাহ ছিল সেই সক্ষমতার ৫১ শতাংশ।
দেশের দুটি
ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ মহেশখালীতে। একটির মালিক এক্সিলারেট
এনার্জি। অন্যটির মালিক সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। দুটিই পরিচালনা
করে এক্সিলারেট এনার্জি।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের
(আরপিজিসিএল) একজন কর্মকর্তা বলেন, বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে
এক্সিলারেটের টার্মিনালে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুদ শেষ হয়ে যায়। এরপর সেখান
থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দেওয়া বন্ধ হয়।
“তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে।”
এক্সিলারেটের
সরবরাহ বন্ধ নিয়ে পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এক্সিলারেট তো দিচ্ছিল অল্প অল্প করে, এখন বন্ধ
আছে।”
আরেক প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, “তাদের কার্গো সংকট।”
কার্গো কবে আসবে? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “একটি বৃহস্পতিবার এবং আরেকটি শনিবার আসতে পারে।”
গত
২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে
সেখান থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই
সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। এর মধ্যে ১৩
অগাস্ট সামিটের টার্মিনালও বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সামিট সরবরাহ শুরু করে। একই
দিন এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হলেও পরে সেখান থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস
দেওয়া হচ্ছিল।
আরপিজিসিএল গত সোমবার পাঁচটি এলএনজি কার্গোর জন্য দর
চায়। পেট্রোবাংলার সঙ্গে এলএনজি কেনাবেচার মূল চুক্তি বা এমএসপিএ করা ২৬
প্রতিষ্ঠানকে এতে অংশ নিতে বলা হয়। ওই দিনই সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত
মন্ত্রিসভা কমিটি বিপি সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে দুটি কার্গো কেনার অনুমোদন
দেয়। ২৩-২৪ অগাস্ট সরবরাহের কার্গোতে ব্যয় হবে ৯২৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর
৪-৫ সেপ্টেম্বরের কার্গোতে ব্যয় হবে ৯২৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
পরদিন বাকি
তিনটি সরবরাহ সময়ের জন্য আবার দর চায় আরপিজিসিএল। এগুলো হলো ২৬-২৭ অগাস্ট,
২৯-৩০ অগাস্ট এবং ১-২ সেপ্টেম্বর। আবার দর চাওয়ার কারণ নোটিশে বলা হয়নি।
বুধবার
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট
লিমিটেডের কাছ থেকে আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়। প্রতি
এমএমবিটিইউর দাম ধরা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার। এটি ১-২ সেপ্টেম্বর সরবরাহের
কথা। চলতি বছরে এটি বাংলাদেশের ৪৪তম এলএনজি কার্গো। দুদিন আগে অনুমোদিত
বিপির দুই কার্গোর তুলনায় আরামকোর কার্গোতে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম
যথাক্রমে ২ দশমিক ০৫২ ডলার ও ২ দশমিক ১৫২ ডলার বেশি।
