বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ আয়োজনে কর্মশালা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩২ এএম |



চলচ্চিত্র নির্মাণের পর পোস্ট-প্রডাকশন থেকে শুরু করে দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্মাতা, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখি-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ‘ইবুড়হফ ঃযব ঝপৎববহ: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালা।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে আয়োজিত এ কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তপু খান, শাকিব খান অভিনীত আমিই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের পরিচালক। বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, দর্শক সম্পৃক্ততা, চলচ্চিত্র বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও বাণিজ্যিক কৌশল নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
কর্মশালায় চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রডাকশন পরবর্তী ধাপ, ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরের ভূমিকা, ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্র্যাটেজি, হল নির্বাচন ও বুকিং, প্রযোজক-পরিবেশক-প্রদর্শকের সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের বিপণন ও দর্শক তৈরি, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং কমার্শিয়াল পজিশনিংসহ চলচ্চিত্র বিতরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালার একটি বিশেষ সেশনে ‘সিনেমা পরিবেশনা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ বিষয়ে আলোচনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। চলচ্চিত্রের নির্মাণ থেকে দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের পারস্পরিক সম্পর্ক, পেশাদার যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
কর্মশালায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সারা বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশনের প্রয়োজনীয়তা। আলোচনায় বলা হয়, চলচ্চিত্রের দর্শক শুধু ঢাকা বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও রয়েছে সম্ভাবনাময় দর্শক। তাই একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধু নির্মাণের মানের ওপর নির্ভর করে না—সঠিক ডিস্ট্রিবিউশন পরিকল্পনার মাধ্যমে কত বিস্তৃত দর্শকের কাছে চলচ্চিত্রটি পৌঁছাতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের নৈতিকতা বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্বচ্ছ রাজস্ব বণ্টন, সঠিক বক্স অফিস রিপোর্টিং, ন্যায্য স্ক্রিন বরাদ্দ, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা, কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা এবং চলচ্চিত্রের অনুমোদিত সংস্করণ প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জনাব ম. জাভেদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলী সরকার।
এছাড়া কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি (ইটঋঞ) এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে হলে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণ নয়; পোস্ট-প্রডাকশন, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রদর্শন—পুরো চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
‘ইবুড়হফ ঃযব ঝপৎববহ: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ কর্মশালার মাধ্যমে নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের চলচ্চিত্রের নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা, বাজার ও ডিস্ট্রিবিউশন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও পেশাগত ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২