
শেষ
দিনের সকালজুড়ে লড়াইটা জমিয়ে রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে
মাত্র ১৬ বল, সেখানেই বদলে গেল গলের ম্যাচের পুরো চিত্র। বাঁহাতি স্পিনার
মানভ সুতারের ঘূর্ণিতে চার উইকেট হারিয়ে ২০৬ রানে অলআউট হলো শ্রীলঙ্কা।
ভারত তাদের ৬০০তম টেস্ট ম্যাচে জয় পেল ১৬৫ রানে।
৩৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া
করতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে ৪ উইকেটে ৮৪ রান ছিল শ্রীলঙ্কার। আজ শেষ দিনে
তাদের লড়াইয়ের ভরসা হয়ে ছিলেন সোনাল দিনুশা। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গে পঞ্চম
উইকেটে ৯৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচটাকে আবার ভারতের নাগালের বাইরে নেওয়ার
চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
ধনঞ্জয়া ৫৯ রানে ফিরলেও থামেননি দিনুশা। পরে
সপ্তম উইকেটে কেশারা নুয়ানথার সঙ্গে আরও ৪৩ রান যোগ করেন। কিন্তু দিনুশার
৮৪ রানের লড়াই থামতেই শুরু হয় শ্রীলঙ্কার ধস।
এরপর যা ঘটেছে, সেটিই
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়। ৭৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৬ উইকেটে
১৯৯। পরের ওভারের প্রথম দুই বলেই প্রবাত জয়াসুরিয়া ও সোনাল দিনুশাকে
ফিরিয়ে দেন সুতার। ওভারের শেষ বলে লাহিরু কুমারাকেও ফেরান তিনি। পরের ওভারে
ফিরে এসে চতুর্থ বলে কেশারা নুয়ানথাকে আউট করে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শেষটাও
লিখে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মাত্র ১৬ বলের মধ্যে চার উইকেট; শ্রীলঙ্কার
১৯৯ থেকে ২০৬!
সুতারের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল ক্যারিয়ারের বিশেষ এক
অধ্যায়। মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলেই এক ম্যাচে পেলেন ১০ উইকেট। প্রথম ইনিংসে
চার উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ছয়টি। এর আগে অভিষেক টেস্টে
আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিয়েছিলেন সাত উইকেট।
গলে ১০ উইকেট নিয়ে ঘরের
বাইরে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে টেস্টে এই কীর্তি গড়েছেন সুতার।
ম্যাচ শেষে তাঁর প্রশংসায় ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল বলেন, ‘সে দুর্দান্ত
বোলিং করছে, ভারতে খেলা প্রথম ম্যাচে এবং এ ম্যাচেও তাকে দারুণ সম্ভাবনাময়
খেলোয়াড় মনে হয়েছে। যে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের হয়ে খেলতে পারে।’
ভারতের
জন্য জয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ছিল তাদের ৬০০তম টেস্ট। আর এই জয়েই দুই
ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শুবমান গিলের দল।
তবে হারের পরও
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা স্বীকার করেছেন, গলে চতুর্থ ইনিংসে
ব্যাট করা সহজ নয়। তাঁর ভাষায়, ‘গলে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সহজ নয়। রাহুল
ও পাড়িক্কাল ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপান্তর করে চাপ সৃষ্টি করেছে।’
