
বাংলাদেশ
ফুটবল ফেডারেশনের প্রফেশনাল লিগ কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ
কাপ দিয়ে মাঠে গড়ানোর কথা ছিল ২০২৬-২৭ মৌসুমের ফুটবল। আর ২৫ আগস্ট শুরু
হওয়ার কথা ছিল ফেডারেশন কাপ এবং বাংলাদেশ ফুটবল লিগ ২৮ আগস্ট। সপ্তাহখানেক
আগে বাফুফে সভাপতি ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই মৌসুমে চ্যালেঞ্জ কাপ হবে না। তবে
যথাসময়ে ফেডারেশন কাপ ও বাংলাদেশ ফুটবল লিগ শুরুর পরিকল্পনা তাদের আছে।
পূর্বের
ঘোষণা অনুযায়ী, ফুটবল মাঠে গড়াতে বাকি এক সপ্তাহ। তবে কোনো ক্লাবই
প্রস্তুতি শুরু করেনি অনিশ্চয়তার কারণে। কেন এই অনিশ্চয়তা? ৭ দিন আগেই
বাফুফে এবং অন্য ক্লাবগুলো জানে না ঠিক কয়টি ক্লাব নিয়ে হবে এবারের ঘরোয়া
মৌসুম। আবাহনী, বসুন্ধরা কিংস ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের ফিফা
নিষেধাজ্ঞার কারণেই তৈরি হয়েছিল সব অনিশ্চয়তা। দুদিন আবাহনী ফিফার
নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়ে দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ১৪টি থেকে কমে কিংস
এখনো ৯টি নিষেধাজ্ঞার বোঝা নিয়ে দুলছে অনিশ্চয়তার দোলায়।
মোহামেডানসহ
কয়েকটি ক্লাব এরই মধ্যে বর্তমান লিগ কমিটির পরিবর্তন চেয়ে খেলা পিছিয়ে দিতে
বলেছে। ঘরোয়া ফুটবল পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান একটি ক্লাবের শীর্ষ
কর্মকর্তা হওয়ায় নিরপেক্ষতা থাকছে না বলেও অনেকের অভিযোগ। একগাদা দাবি
সম্বলিত একটি চিঠি এরই মধ্যে বাফুফে সভাপতি বরাবর দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল
লিগ ও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলা দলগুলো।
মোহামেডান স্পোর্টিং
ক্লাব লিমিটেডের পরিচালক (ক্রীড়া) মোস্তকুর রহমান যেমন বলছিলেন, ‘অনুশীলনের
জন্য আমাদের সময় লাগবে। ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ কীভাবে হবে? এখন পর্যন্ত
দলই ঠিক হয়নি। হয়নি ড্র। আমরা চিঠি দিয়েছি। আলোচনা করেছি। লিগ কমিটির লোকজন
যে কি করতে চান তা বুঝি না।’
ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফুটবল ম্যানেজার আমের
খান বলছিলেন, ‘কী যে হচ্ছে ঠিক জানি না। এখন পর্যন্ত যে তারিখ নির্ধারণ আছে
তাতে ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ শুরু হওয়ার কথা। তবে সাত দিন আগেও তো
টুর্নামেন্টের ড্র হয়নি। দলও ঠিক নেই। এখনো দুটি দল সাসপেনশন তুলতে পারেনি।
তারা ক্লাব লাইসেন্সিংও সম্পন্ন করতে পারেনি।’
বোঝাই যাচ্ছে আগস্টে
ফুটবল মাঠে নেওয়া সম্ভব না বাফুফের প্রফেশনাল লিগ কমিটির পক্ষে। যদিও
বাফুফে সভাপতি বলেন, নির্ধারিত সময়েই হবে। ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ না হলে
কতদিন পেছাবে, নতুন তারিখ কবে হতে পারে-এই প্রশ্নের উত্তর বাফুফে ভবনের
কারও কাছেই নেই।
সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারকে একাধিকবার ফোন
দিলেও রিসিভ করেননি। ফোন ধরেননি প্রফেশনাল লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান
জাকির হোসেন চৌধুরীও। সবকিছু মিলিয়ে ঘরোয়া ফুটবল লিগে এতটা বাজে পরিস্থিতি
আগে কখনো হয়নি। এক কথায় লেজেগোবরে অবস্থা।
নতুন মৌসুমের জন্য সবার আগে
দল গঠন করেও প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি মোহামেডান। তাদের
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী সোমবার রাতে ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার আবাহনী কর্তৃপক্ষ নতুন ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছে দলটির সাবেক
ফুটবলার সহিদ হোসেন স্বপনকে। খুব দ্রুতই আকাশি-নীলরা দল তৈরির কাজ শুরু
করেছে। গত মৌসুমে খেলা দলের ২২ ফুটবলার রেখে দেওয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ
ফুটবল লিগের ৬ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
