আইন পেশায় দক্ষতা বাড়াতে আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, বর্তমানে শর্টকাটে অনেকেই আইনজীবী হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না।
মঙ্গলবার
(১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য বেসরকারি
এক ব্যাংকের উপশাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী
বলেন, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৭ হাজার আইনজীবী থাকলেও চূড়ান্ত শুনানি করার
মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনজীবী তৈরি করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ
বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে যা করা
সম্ভব আমরা সেটা করতে চাই। তবে এ জন্য বার কাউন্সিলের সদস্য ও আইনজীবীদেরও
দায়িত্ব রয়েছে।
আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সরকারের কাছে
তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, পেশার জন্য
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারের কাছে দাবি জানাতে হয়। কিন্তু গত ছয় মাসে আমার
কাছে এ রকম কোনো দাবি জানানো হয়নি।
আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যায়ক্রমে ৮০ হাজার আইনজীবীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
মো.
আসাদুজ্জামান বলেন, এটা একমাত্র প্রফেশন যাদের কোনো ট্রেনিং হয় না। সরকারি
চাকরিজীবী ও বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আইনজীবীদের জন্য
পেশাগত প্রশিক্ষণের তেমন কোনো কাঠামো নেই। আইনজীবীরা আইন পেশার সনদ নিয়ে
সিনিয়রের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে একদিন নিজেও সিনিয়র হয়ে যান। এর মাঝে তার আর
কোনো ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নেই।
আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার
প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজেদের সমৃদ্ধ,
প্রস্তুত ও প্রশিক্ষিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিলের
যে প্রশিক্ষণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, বিগত বছরগুলোতে তা করা সম্ভব হয়নি।
আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজাবো। বাংলাদেশের আইন
পেশাকে ঢেলে সাজাতে চাই।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, আইনজীবীদের
প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নামে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা
হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর এই বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।
আইনজীবীদের
পেশাগত পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ এখন নানান ধরনের
বিরোধের সমাধান নিজেরাই করার চেষ্টা করছেন।
বিচার বিভাগ থেকে সরকারের
রাজস্ব আয় ও বিচার বিভাগের বাজেট নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন,
কোর্ট ফি ও ওকালতনামার মাধ্যমে বিচার বিভাগ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার
কোটি টাকা আয় হলেও পুরো বিচার বিভাগের জন্য বার্ষিক বাজেট দুই হাজার কোটি
টাকার কিছু বেশি।
তার মতে, সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দও খুবই অপ্রতুল।
আইনজীবী পেশার মর্যাদা বাড়াতে বার কাউন্সিলকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান
হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ
বার কাউন্সিলের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বার
কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন ও সদস্য বদরুদ্দোজা বাদল।
