
জুনে
মালদ্বীপে চার জাতির টুর্নামেন্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। ঐ টুর্নামেন্টে
বাংলাদেশ ও স্বাগতিক মালদ্বীপের ম্যাচে দুই দলের ফুটবলাররা হাতাহাতিতে
জড়িয়েছিলেন। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর ফিফা বাংলাদেশের ম্যানেজার
ও ফুটবলার মিরাজুলকে এক দফা শাস্তি দিয়েছিল আর্থিক জরিমানা করে।
ফরোয়ার্ড
আল আমিনের বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছিল। সম্প্রতি আল আমিনকে ১৫ ম্যাচের জন্য
নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। বাফুফের দায়িত্বশীল সূত্র ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত
করেছে।
জাতীয় দল বছরে সাত-আটটির বেশি ম্যাচ খেলে না। ১৫ ম্যাচ
নিষিদ্ধের ফলে প্রায় দুই বছর জাতীয় দল কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ম্যাচ
খেলতে পারবেন না আল আমিন। সম্ভাবনাময় ও উঠতি ফুটবলারের জন্য এটি অনেক বড়
ধাক্কা।
১৯৮৯ সালে পাকিস্তান সাফ গেমসে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক
ইলিয়াস হোসেন রেফারিকে লাঞ্চিত করেন। এতে তিনি এক বছর নিষিদ্ধ ছিলেন।
সাম্প্রতিক বা নিকট অতীতে কোনো ফুটবলারের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত বড়
নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ঘটেনি। বাফুফে গত সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞার চিঠি পেলেও
ফুটবলার আল আমিনকে এখনো কিছু জানায়নি। তাই তিনি এই বিষয়ে অজ্ঞাত, ‘আমাকে
এখনো কিছু বলেনি, তাই আমি কিছুই জানি না।’
টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে
বাংলাদেশ অলিম্পিক দল ও স্বাগতিক মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাকর
পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় দলের খেলোয়াড়রা মারামারিতে জড়িয়ে
পড়েন। মালদ্বীপের কয়েকজন ফুটবলার মারমুখী আচরণ করেন এবং বাংলাদেশের
খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক আঘাতও করেন। রেফারিং ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ফিফা
বাংলাদেশের ফুটবলার,ম্যানেজারকে শাস্তি দিলেও মালদ্বীপে কি ব্যবস্থা নিয়েছে
জানতে পারেনি এখনো বাফুফে।
জুন মাসের ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ জাতীয় দল
সান মারিনো সফরে থাকলেও একই সময়ে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত ফিফা স্বীকৃত চার
জাতি টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। টুর্নামেন্টের শেষ
ম্যাচের ঘটনায় বাফুফে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
কমিটি প্রতিবেদন
প্রস্তুত করলেও আল আমিনের শাস্তির সিদ্ধান্ত আসায় আবার পর্যালোচনা করছে।
ম্যানেজারের জরিমানা হয়তো সে নিজেই বহন করতে পারে, তবে মিরাজুল ও আল
আমিনের জরিমানার অর্থ ফেডারেশনকেই দিতে হতে পারে। আল আমিনের শাস্তির
বিপরীতে বাফুফে কোনো আপিল করে কি না সেটাই দেখার বিষয়।
