কুমিল্লা প্রতিনিধি :
ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি স্লিপিং কোচ বাসে ভয়াবহ
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ
রিলায়েবল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের এলাকায় একটি অজ্ঞাত গাড়ির পেছনে ধাক্কা
দিয়ে থেমে যায় বাসটি। এরপরেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এ অগ্নিকাণ্ড
হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন বাসের ঘুমন্ত যাত্রীরা।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপ পরিদর্শক ফারুকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি
জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকা গামী একটি স্লিপিং কোচ বাস মহাসড়কের
দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ রিলায়েবল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কাছে অন্য
একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাক্কার সাথে সাথেই
বাসটি সেখানে থেমে যায়। এর মাঝে কিছু যাত্রী বাস থেকে নেমে ঘটনা বোঝার
চেষ্টা করেন। এরপরই আগুনের সূত্রপাত ঘটে।আগুন ছড়াতে শুরু করলেই বাসের
ঘুমন্ত যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে বাস থেকে নেমে প্রাণে রক্ষা পান।
ইলিয়টগঞ্জ
হাইওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্য, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন আগুন
নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি। তাঁর ধারণা, বাসের ইঞ্জিনের কোন অংশ অথবা
বাসের পেছনের এসির অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত।
বাসটির আগুণ নেভাতে আসা
দাউদকান্দি ফায়ার স্টেশনের পরিদর্শক মোঃ এরশাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক ভাবে
ধারণা করা হচ্ছে - ইঞ্জিনের কোন অংশ থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে দাহ্য
সিট কভার, পর্দায় আগুন লেগে তা ছড়ায়৷ আমরা এসেই দেখি -মানুষ জন কিছু
বাইরে। আবার কেউ জানালার কাচ ভেঙে বের হন। তাদেরকে সহযোগিতা করে স্থানীয়রা।
তবে বাসের আগুণ নেভানোর সময় ও পরে বাসের চালক বা সহকারী কাউকে পাওয়া যায় নি বলে মোঃ এরশাদ হোসেন জানান।
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বাসের যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরে আগুনে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয়
টামটা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলেন, বাসে আগুন দেখে আমরা
দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই। সব যাত্রী নিরাপদে বের হতে পেরেছেন। তবে আগুনের
ভয়াবহতা ছিল অনেক বেশি। পুরো বাসটি পুড়ে গেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী
সাদ্দাম হোসেন জানান, আগুন দেখে তিনি দ্রুত মহাসড়কে ছুটে যান। বাস থেকে
যাত্রীরা নিরাপদে বের হতে পারলেও মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাসে দাউ দাউ করে
আগুন জ্বলতে থাকে।
ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর পর বাসটিকে সরিয়ে নেয়
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ। মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাসের সকল যাত্রীরা অন্য
পরিবহনে গন্তব্যে চলে যায় বলেও জানা পুলিশ।
