মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সিএনজির মিটারে ‘আকাশছোঁয়া’ লাফ,
ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে যাত্রীর পকেটে নীরব ডাকাতি
মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ এএম আপডেট: ১৮.০৮.২০২৬ ১:৪০ এএম |




 ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কে যাত্রীর পকেটে নীরব ডাকাতি হঠাৎ যেন বদলে গেছে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের দূরত্ব! রাস্তা একই আছে, গাড়িও আগেরটিই, কিন্তু পকেট থেকে খসে যাওয়া টাকার অংকে বড়সড় এক ‘বিস্ফোরণ’ ঘটেছে। কিছুদিন আগেও যে পথের ভাড়া ছিল ৮০ টাকা, আজ সেখানে গুণতে হচ্ছে এক লাফেই ১৫০ টাকা! কোনো সরকারি ঘোষণা নেই, নেই কোনো গণশুনানির বালাই অথচ যাত্রীদের হাত থেকে খসে পড়ছে বাড়তি ৭০ টাকা। নৈমিত্তিক এই রুটে যাতায়াতকারী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রশ্ন একটাই “ভাড়া বাড়ানোর এই কাল্পনিক অনুমোদন দিল কে?”
সরেজমিনে ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চালক ও পরিবহন মালিকরা মনগড়া ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুরাদানগরগামী নিত্যদিনের যাত্রীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলেই মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের তড়িঘড়ি বাকবিতণ্ডা ও তোপের। কোনো পূর্ববিজ্ঞপ্তি ছাড়া রাতারাতি এ ধরনের অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “রাস্তা কি রাতারাতি দ্বিগুণ বড় হয়ে গেল? নাকি জ্বালানির দাম দ্বিগুণ বেড়েছে? কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো অপমানের শিকার হতে হয়।”
অনুমোদনহীন এই ভাড়ার রমরমা বাণিজ্যে দিশেহারা সাধারণ যাত্রীদের এখন একটাই দাবি অবিলম্বে সরকারি বা নিবন্ধিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ভাড়ার সঠিক তালিকা প্রকাশ্যে টাঙাতে হোক। সড়কটিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে ভাড়া বৃদ্ধিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
কয়েকজন সিএনজি চালক জানায়, পাম্পে গেলে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও যেখানে ৫/৬শ টাকার গ্যাস ঢুকতো, পেশার না থাকায় বর্তমানে ১শত থেকে ১৫০ টাকার গ্যাস ঢুকে। তাই আমরা নিরূপায়। সিএনজির ভাড়া, সংসার খরচ, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে আমাদের অবস্থা নাবিস্বাস।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট সাকিব হাছান খান দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, বিষয়টি নজরে আসলে সিএনজি চালকদের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। যদি অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই, তাহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। 
সংশ্লিষ্ট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন কি তবে নীরব দর্শক হয়ে থাকবে, নাকি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই ‘পকেট কাটার’ উৎসব বন্ধ করবে এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা। 













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২