
চট্টগ্রামের
সীতাকুণ্ডের সমুদ্রসৈকতে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি ট্যাংকার কাটার সময় জমে
থাকা অতি-বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শ্রমিকের করুণ ও আকস্মিক মৃত্যু
আবারও উন্মোচিত করেছে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পের চরম নিরাপত্তা ঘাটতি ও
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়া
শ্রমিকের রক্ত আর বাতাসের বিষাক্ত ধোঁয়া কেবল একটি মর্মান্তিক ঘটনামাত্র
নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত কাটিং ব্যবস্থারই এক অনিবার্য
ফল।
বিশ্বব্যাপী যেখানে পুরোনো জাহাজের ভাঙারি থেকে বিপুল পরিমাণ
ইস্পাত ও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য কাঁচামালের জোগাড় করা হচ্ছে, সেখানে অনুন্নত
বা উন্নয়নশীল দেশের সৈকতে এটি পরিণত হয়েছে একটি মরণফাঁদে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র
ও ইউরোপের উন্নত দেশগুলোয় এই শিল্পটি কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা অপকৌশলের শিকার
নয়, বরং পরিবেশ ও শ্রমিকের সুরক্ষায় শতভাগ আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত ও
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিচালিত একটি শিল্পে রূপ নিয়েছে।
উন্নত ও
অনুন্নত ব্যবস্থার এই মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হলে প্রথমেই অনুধাবন করতে হবে
একটি পুরোনো জাহাজের ভেতরে কী কী বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ও ধাতু লুকায়িত
থাকে এবং সেগুলো ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল। সমুদ্রের চরম লোনা পানি ও
প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে জাহাজের বিশালাকার ইস্পাত কাঠামোকে রক্ষা করতে
দীর্ঘকাল ধরে ‘রেড লেড’ নামক সিসাযুক্ত প্রলেপ ও অ্যান্টি-রাস্ট প্রাইমার
ব্যবহার করা হতো।
এই সিসা কেবল জং ধরতেই বাধা দেয় না, বরং জাহাজের ভর ও
সঠিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য এবং পানির ভেতরের ক্যাবল ও পাইপের
স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে ব্যবহৃত হতো। এর সাথে যুক্ত হতো ক্যাডমিয়াম, যা মূলত
জাহাজের বিভিন্ন নাটবল্টু, ছোট ধাতব যন্ত্রাংশ এবং বৈদ্যুতিক তারের
প্রলেপে জং ধরা ঠেকাতে স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ব্যাকআপ শক্তির
নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি এবং উজ্জ্বল স্থায়ী রঙেও ক্যাডমিয়ামের ব্যাপক
উপস্থিতি থাকে।
এছাড়া জাহাজের তলায় শ্যাওলা, ঝিনুক বা সামুদ্রিক জীব জমে
জাহাজের গতি কমিয়ে দেওয়া রোধ করতে অতীতে ট্রাইবিউটাইলটিন বা টিবিটি নামের
একটি মারাত্মক বিষাক্ত অর্গানোটিন রাসায়নিকের প্রলেপ দেওয়া হতো। জাহাজের
ইনসুলেশন ও আগুন প্রতিরোধে ব্যবহৃত হতো হাজার হাজার টন অ্যাসবেস্টস এবং
বৈদ্যুতিক তার ও হাইড্রোলিক ফ্লুইডে থাকত দীর্ঘস্থায়ী বিষাক্ত
পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল (পিসিবি)।
উন্মুক্ত স্থানে জাহাজ কাটার সময়
এসব ভারী ধাতু ও রাসায়নিক কাদা-মাটিতে মিশে সাগরের মাছ ও খাদ্যশৃঙ্খলে
প্রবেশ করে এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে কাটার সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় রূপ নিয়ে
শ্রমিকের ফুসফুস সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
কেবল উন্মুক্ত বর্জ্যই নয়,
সীতাকুণ্ডের ঘটনার মতো আবদ্ধ স্থানে শ্রমিকের তাৎক্ষণিক মৃত্যুর পেছনে কাজ
করে জাহাজের পেটে তৈরি হওয়া অদৃশ্য কিছু বিষাক্ত গ্যাস, যা কোনো সরাসরি
আগুন ছাড়াই প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। তেল বা
কেমিক্যালবাহী জাহাজের ট্যাঙ্কের তলানিতে বছরের পর বছর জমে থাকা তেলের
অবশিষ্টাংশ, জৈব বর্জ্য ও স্লাজ যখন অক্সিজেনহীন অবস্থায় পচতে থাকে, তখন
সেখানে তৈরি হয় হাইড্রোজেন সালফাইড।
এই গ্যাসটি সামান্য ঘনমাত্রায় পচা
ডিমের মতো দুর্গন্ধযুক্ত হলেও উচ্চ ঘনমাত্রায় মানুষের ঘ্রাণশক্তি নিমেষেই
অবশ করে দেয় এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শ্বাসনালী অবশ করে মানুষকে
অচেতন করে ফেলে। একই সময়ে ট্যাঙ্কের ভেতরের ধাতব দেয়াল মরিচা ধরার
প্রক্রিয়ায় কিংবা রাসায়নিক জারণের ফলে ভেতরের বাতাসের অক্সিজেন ফুরিয়ে যায়,
যা মারাত্মক অক্সিজেন শূন্যতার সৃষ্টি করে।
সাধারণ মানুষকে এটি বোঝার
সুযোগ না দিয়েই ১-২ বার শ্বাস নেওয়ার সাথে সাথেই নিস্তেজ করে ফেলে। এছাড়া
হাইড্রোকার্বনের অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি মিথেন গ্যাস একদিকে অত্যন্ত দাহ্য
এবং অন্যদিকে বাতাসকে স্থানচ্যুত করে শ্বাসরোধ ঘটায়। আর অনেকের মনে প্রশ্ন
জাগতে পারে, কোনো দহন বা আগুন না জ্বললে কীভাবে সেখানে কার্বন মনোক্সাইড
তৈরি হলো?
এর মূল কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে ট্যাঙ্কের স্লাজ ও কেমিক্যালের
ধীরগতির স্বতঃস্ফূর্ত জারণ বা লো-টেম্পারেচার অক্সিডেশন, যার উপজাত হিসেবে
কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হয়। এর সাথে যুক্ত হয় জাহাজের বয়লারের পুরোনো ইনার্ট
গ্যাস সিস্টেমের অবশিষ্টাংশ, যেখানে অসম্পূর্ণ দহনের ফলে তৈরি হওয়া কার্বন
মনোক্সাইড আগে থেকেই জমা ছিল এবং জাহাজের পেটে তেলের প্রলেপ ও রঙের
ধীরগতির অবক্ষয়, যা বাতাস থেকে অক্সিজেন শোষণ করে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত কার্বন
মনোক্সাইড নির্গমন করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় এইসব
প্রাণঘাতী গ্যাস ও বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি সম্পর্কে কোনো অনুমানভিত্তিক
কাজ করা হয় না। সেখানে কার্যকর ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিপ রিসাইক্লিং নিয়মাবলী এবং
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ও ওএসএইচএ নির্দেশিকা অনুযায়ী
প্রতিটি জাহাজে কাটার কাজ শুরু করার আগে ‘আইএইচএম’ বা ইনভেন্টরি অফ
হেজার্ডাস মেটেরিয়ালস সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক।
একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ
বিশেষজ্ঞ জাহাজটির প্রতিটি কামরা স্ক্যান করে একটি ত্রিমাত্রিক মানচিত্র
তৈরি করেন, যেখানে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত থাকে কোন স্থানে কতটুকু অ্যাসবেস্টস,
সিসা, ক্যাডমিয়াম, পিসিবি বা তেল জমা রয়েছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই
প্রতিটি জাহাজের জন্য পৃথক বর্জ্য অপসারণ ও কাটিং পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পতাকা বহনকারী জাহাজের জন্য উন্মুক্ত সৈকতে কাটার
‘বিচিং’ পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে এবং কেবল অনুমোদনপ্রাপ্ত
পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ইয়ার্ডেই’ কাটার অনুমতি দেয়।
উন্নত দেশগুলোর
রিসাইক্লিং ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো এর ভৌত অবকাঠামো। সমুদ্রের
উন্মুক্ত কাদা-মাটিতে জাহাজ ভাসিয়ে হাত দিয়ে কাটার বদলে যুক্তরাজ্য,
নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ার্ডগুলো বিশাল ড্রাই ডক পদ্ধতি ব্যবহার
করে। এই পদ্ধতিতে জাহাজটি একটি কৃত্রিম কংক্রিটের ডকে প্রবেশ করিয়ে মুখ
বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পাম্পের মাধ্যমে ভেতরের সব পানি বের করে সম্পূর্ণ
শুষ্ক পরিবেশ তৈরি করা হয়।
ফলে জাহাজ কাটার সময় ধুলো, সিসার গুঁড়ো বা
তেলের ফোঁটা সরাসরি সাগরের পানিতে পড়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকে না। ডকের
মেঝের নিচে বিশেষ ড্রেন ও সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা
ইটিপি থাকে, যা সব নোংরা পানি সংগ্রহ করে শোধন করে। এছাড়া ওয়াশিংটন বা
টেক্সাসের মতো উপকূলীয় স্থানে পিয়ার-সাইড বা কে-সাইড পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়,
যেখানে একটি সুরক্ষিত কংক্রিট জেটিতে জাহাজ বেঁধে চারপাশে তেলের বিস্তার
রোধক ভাসমান বেল্ট বা বুম স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে বিশাল ক্রেন দিয়ে
জাহাজের বিভিন্ন অংশ কেটে সরাসরি ডকে নামানো হয়।
ডেনমার্ক ও নরওয়ের মতো
দেশে ব্যবহার করা হয় এনক্লোজড স্লিপওয়ে, যা প্লাস্টিক বা মেটালের বিশাল ঘর
দিয়ে ঘেরা থাকে, ফলে ঝড়-বৃষ্টি বা বাতাসে বিষাক্ত অ্যাসবেস্টসের ধূলিকণা বা
কেমিক্যাল পরিবেশের বাইরের বাতাসে ছড়াতে পারে না।
আবদ্ধ স্থানের
নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা যে প্রযুক্তি অনুসরণ করে তা অত্যন্ত নিখুঁত। ইউরোপ
বা যুক্তরাষ্ট্রর কোনো ডকইয়ার্ডে সনদপ্রাপ্ত ‘মেরিন কেমিস্ট’ কর্তৃক লিখিত
‘গ্যাস-ফ্রি ফর হট ওয়ার্ক’ সনদ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো শ্রমিক কাটিং টর্চ
নিয়ে ট্যাঙ্কের কাছেও যেতে পারেন না। ট্যাঙ্কে কাজ করার আগে ও চলাকালীন
সময়ে শক্তিমান এক্সপ্লোশন-প্রুফ ফ্যান ও ব্লোয়ার দিয়ে অনবরত বাইরের তাজা
বাতাস পাম্প করা হয়।
প্রত্যেক শ্রমিকের পোশাকের সাথে যুক্ত থাকে
‘ফোর-গ্যাস ডিজিটাল মনিটর’, যা বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ১৯.৫ শতাংশের নিচে
নামলে কিংবা হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও দাহ্য গ্যাসের
উপস্থিতি মাত্রই বিকট শব্দে অ্যালার্ম বাজিয়ে সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশ
দেয়। যেসব স্থানে সামান্যতম গ্যাসের উপস্থিতি বা দাহ্যতার ঝুঁকি থাকে,
সেখানে কোনো আগুনের টর্চ ব্যবহার করা হয় না। এর পরিবর্তে উচ্চচাপের পানি ও
বালুর সংমিশ্রণে গঠিত ওয়াটারজেট কাটিং বা মেকানিক্যাল হাইড্রোলিক শেয়ার
দিয়ে ‘কোল্ড কাটিং’ করা হয়, যা কোনো স্ফুলিঙ্গ বা আগুন উৎপন্ন না করেই
ইস্পাত কেটে ফেলে।
জাহাজে থাকা অ্যাসবেস্টস ও অন্যান্য মারাত্মক বর্জ্য
অপসারণের জন্য উন্নত ইয়ার্ডগুলোয় অনুসরণ করা হয় নেগেটিভ-প্রেসার এনক্লোজার
প্রযুক্তি। অ্যাসবেস্টস যুক্ত ঘরটি এয়ার-টাইট প্লাস্টিক দিয়ে মুড়ে ভেতরের
বায়ুচাপ কম রাখা হয় এবং হেপা-ফিল্টার চালিত সাকশন ইউনিট ব্যবহার করা হয়,
যাতে অ্যাসবেস্টসের অণুকণা ভেতরেই শোষিত হয়ে যায় এবং টেকনিশিয়ানদের ফুসফুসে
প্রবেশ করতে না পারে।
শ্রমিকরা বায়ু সরবরাহকারী মাস্ক ও বিশেষ
কেমিক্যাল-প্রতিরোধী হজম্যাট স্যুট পরিধান করে কাজ পরিচালনা করেন। জাহাজের
তলানিতে জমা থাকা কেমিক্যাল স্লাজ ও পোড়া তেল ভ্যাকুয়াম ট্যাংকারে সংগ্রহ
করে বিশেষ কেমিক্যাল ইনসিনারেটরে উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে সম্পূর্ণ
নিষ্ক্রিয় করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রর টেক্সাসের ব্রাউনসভিল ইয়ার্ড কিংবা
যুক্তরাজ্যের হার্টলপুলের টিসাইড সেন্টারে শিপ রিসাইক্লিংয়ের এই বৈজ্ঞানিক
ব্যবস্থার বাস্তব উদাহরণ দেখা যায়। ডেনমার্কের মার্স ইউরোপ কিংবা নরওয়ের
গ্রিন ইয়ার্ড ফেডাতে শ্রমিকদের ভারী বা বিপজ্জনক স্থানে নামানোর বদলে দূর
নিয়ন্ত্রিত ডেমোলিশন রোবট, ক্যাটারপিলার চালিত হাইড্রোলিক কাটার এবং ভাসমান
ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
রোবটের মাধ্যমে ভারী ইস্পাতের প্লেট কেটে
ক্রেনের সাহায্যে সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে শ্রমিকদের উপর থেকে ভারী ধাতু পড়ে
আঘাত পাওয়া কিংবা আবদ্ধ বিষাক্ত ট্যাঙ্কে নিঃশ্বাস নেওয়ার কোনো প্রয়োজনই
পড়ে না। এই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দরুণ ওইসব দেশে জাহাজ কাটার সময়
প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সংখ্যা একেবারেই শূন্যের কাছাকাছি।
সীতাকুণ্ডের
করুণ ট্র্যাজেডি বাংলাদেশকে এক কঠোর বার্তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। দেশের
অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য কাঁচামাল হিসেবে ইস্পাত সরবরাহকারী এই শিল্পকে
বাঁচিয়ে রাখতে হলে দ্রুত নীতিগত ও মাঠপর্যায়ের পরিবর্তন দরকার। সমুদ্রসৈকতে
উন্মুক্তভাবে কাটার সনাতন বিচিং পদ্ধতির ইতি টেনে দেশের সব ইয়ার্ডকে
বাধ্যতামূলকভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের ড্রেনযুক্ত স্লিপওয়ে বা আধুনিক ডক
সিস্টেমে রূপান্তর করতে হবে। প্রতিটি জাহাজে প্রবেশের আগে আন্তর্জাতিক নিয়ম
মেনে আইএইচএম সনদ ও নিরপেক্ষ কেমিস্টের গ্যাস-ফ্রি সনদ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক
করা প্রয়োজন।
শ্রমিকদের হাতে সাধারণ কাপড় বা ফোমের মাস্কের বদলে
প্রফেশনাল এয়ার-পিউরিফাইং রেসপিরেটর মাস্ক এবং পার্সোনাল গ্যাস ডিটেক্টর
সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে সেন্ট্রাল বর্জ্য
শোধনাগার এবং বর্জ্য ফেলার জন্য ‘ট্রিটমেন্ট স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল
ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ)’ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।
এর পাশাপাশি ইয়ার্ডের
আশেপাশে বিশেষায়িত বিষাক্ত গ্যাস ও বার্ন চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন এবং
প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে ব্যাংক ঋণে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে এই শিল্পকে এক
আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব রূপ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্র
ও ইউরোপের মডেল এটাই প্রমাণ করে যে, সঠিক প্রযুক্তি, সুনির্দিষ্ট আইনি
বাধ্যবাধকতা এবং জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে শিপ রিসাইক্লিং কখনোই কোনো
বিষাক্ত মৃত্যুকূপ হতে পারে না। বাংলাদেশকেও আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে-আমরা কি
শ্রমিকের প্রাণ আর পরিবেশকে তিলে তিলে ধ্বংস করে এই ধ্বংসাত্মক ধারায়
এগিয়ে চলব, নাকি বৈজ্ঞানিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশ্বমানের
নিরাপদ ও টেকসই রিসাইক্লিংয়ের নতুন যুগে পদার্পণ করব।
লেখক: অধ্যাপক, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
