মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
কোচের আকস্মিক বিদায়, সংকট বাড়ল হকিতে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০২ এএম আপডেট: ১৮.০৮.২০২৬ ১:৩৮ এএম |

কোচের আকস্মিক বিদায়, সংকট বাড়ল হকিতে


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিসিপ্লিন হকি। আসন্ন আইচি-নাগোয়া গেমসে বাংলাদেশ হকি দল গেমসের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিয়ে জটিলতায় রয়েছে। পুরুষ দলের নতুন হেড কোচ গেরহার্ড পিটার, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি, পুষ্কর ক্ষিসা মিমোর আবেদন নির্ধারিত সময়ের পরে করায় কার্ড পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে। সাবেক জাতীয় অধিনায়ক মশিউর রহমান বিপ্লবের কোচ হিসেবে কার্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন থাকলেও আকস্মিকভাবে গতকাল তাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ফেডারেশন। পিটারের কার্ড শেষ পর্যন্ত না হলে গেমসে কোচশূন্য থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জুলাইয়ের শুরুর দিকে বিপ্লবের অধীনেই এশিয়ান গেমসের হকি ক্যাম্প শুরু হয়। ১ আগস্ট গেরহার্ড পিটারের অধীনে অনুশীলন শুরু হলেও সঙ্গে ছিলেন বিপ্লব। গতকাল আকস্মিকভাবে বিপ্লবকে কোচিং স্টাফ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার কর্মস্থল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার নির্দেশনা দেয় ফেডারেশন। পিটারের কার্ড অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিপ্লবকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে হকি অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। দলের সঙ্গে এত দিন থাকা বিপ্লবকে আকস্মিক বিদায়ের কারণ সম্পর্কে ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক সাদেকের ব্যাখ্যা, ‘কোচের পরামর্শেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
বিপ্লবকে অব্যাহতি প্রদান করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নতুন বিদেশি প্রধান কোচ নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তার কৌশলগত দিক নির্দেশনায় বর্তমান প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। নতুন এই কোচিং কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং দলীয় ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপনাকে ১৬.০৮.২০২৬ ইং তারিখ থেকে জাতীয় দলের কোচিং দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে আপনার নিজ কর্মস্থল বিকেএসপিতে পুনবর্হালের জন্য ছাড়পত্র প্রদান করা হলো।' জাতীয় দলের কোচের অব্যাহতির চিঠিতে সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে টিক চিহ্ন দেয়া। সাধারণত একজনের পক্ষে অন্য জন স্বাক্ষর হলে এমন রীতি দেখা যায়। জাতীয় দলের হেড কোচের চিঠিতে এমন কেন এই প্রশ্ন করলে সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গেরহার্ড পিটার বাংলাদেশের হকিতে পরিচিত মুখ। ২০০৯ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশে নানা ভূমিকায় কাজ করছেন। তার অধীনে এক সময় খেলা বিপ্লবের সাথেও তার ভালো সম্পর্ক। ফেডারেশনের চিঠির ভাষায় খানিকটা বিস্মিত বিপ্লব, ‘পিটার যেদিন বাংলাদেশে এসেছে সেদিন সাক্ষাৎকারে বলেছে বিপ্লব আমার ছেলের মতো। এই কয় দিন কোনো সমস্যা হয়নি। কৌশলগত কি বিষয় অসামাঞ্জস্যতা বুঝতে পারলাম না।’
এরপর তিনি আরো দু’টি প্রশ্ন উথাপন করেছেন, ‘গতকালই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, ‘গেমস ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য একজন কোচিং করান আর যান আরেক জন এই সংস্কৃতি পরিবর্তন প্রয়োজন।' এমন মন্তব্যের পরের দিনই এই ঘটনা ঘটল। সিনিয়র পুরুষ দলের পাশাপাশি নারী, অ-২০ দলেও বিদেশি কোচ রয়েছে। সেই কোচিং স্টাফে স্থানীয় কোচরা বহাল রয়েছে আমাকে কেন সরানো হলো এটা বোধগম্য নয়।’
জার্মান হেড কোচ গেরহার্ড পিটার অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা,‌‌ 'বিপ্লব দল নিয়ে কাজ করেছে। জার্মানি সফরে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ সংক্ষিপ্ত করতে হচ্ছে। এজন্য বিপ্লব যাচ্ছে না। জার্মানিতে জার্মান কোচরা কোচিং স্টাফে যুক্ত হচ্ছে। বিপ্লব জার্মানি ও জাপান সফরে যাবে না এটা আগে থেকেই নির্ধারিত। যেমন পেনাল্টি কর্ণারের জন্য চয়ন ও এনালিস্ট পিন্টুও যাচ্ছে না।' জার্মানিতে সহকারী কোচ যুক্ত থাকলেও জাপানে তারা গেমস চলাকালীন সময় থাকতে পারবেন না কার্ড না থাকায়। কার্ডের বিষয়টি অবশ্য পিটার সেভাবে অবগত নন।
বাংলাদেশের হকি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খেলা। ক্লাবের স্বার্থ-কর্মকর্তাদের পছন্দ-অপছন্দের বলি হন খেলোয়াড়-কোচরা। দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি গত দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। কোনো ট্রায়াল বা ফিটনেস টেস্ট না নিয়েই তাকে দল থেকে বাদ দেয়ায় তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। এতে কর্ণপাত করেননি সেই সময়ের কর্মকর্তারা। ১৭ জুলাই নতুন কমিটি হওয়ার পর জিমি ফেডারেশনের সদস্য হয়েছেন। আবার কিছু দিন পর জাতীয় দলে ডাকও পেয়েছেন। কোচ নিয়োগ-অব্যাহতির ক্ষেত্রেও এ রকম ঘটনাই ঘটে। 
এশিয়ান গেমসের আগে কোচ-খেলোয়াড় কার্ড জটিলতার পাশাপাশি প্রস্তুতি নিয়েও শঙ্কার মধ্যে পড়েছে ফেডারেশন। পিটারকে কোচ করে আনার পেছনে একটি বড় কারণ জাপানের আগে জার্মানিতে প্রস্তুতি নেয়া। জার্মানির ভিসার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় প্রস্তুতির সফর নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জার্মানির বিষয়ে এখনো আশাবাদী, ‘আমরা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভিসার বিষয়ে জার্মান দূতাবাসের সাথে প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি ইতিবাচক কিছুই ঘটবে।’













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২