
বিশ্বকাপ
এলেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে সারাবিশ্বে আলোচনা হয়। বিশ্বকাপে এই দুই
দলের সর্বশেষ দ্বৈরথ ১৯৯০ সালে। ঐ ম্যাচে গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার
ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়া। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৬ গোল করা ক্যানিজিয়া
অতি সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। আজ বিকেলে ফর্টিজ গ্রাউন্ডে স্কুল
ফুটবলের পুরস্কার প্রদান করে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।
ক্যানিজিয়ার সঙ্গে
দিয়োগা ম্যারাডোনার নাম আসে। দুজনই বেশ ভালো বন্ধু। ক্যানিজিয়া প্রিয়
বন্ধুকে স্মরণ করলেন এভাবে, ‘ডিয়েগো আমার বন্ধু ছিল। আমরা আর্জেন্টাইনরা
তাকে অনেক মিস করি। জাতীয় দলে আমরা বহু বছর একসঙ্গে খেলেছি। আমি তার চেয়ে
কিছুটা ছোট ছিলাম, তাই ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখে বড় হয়েছি। বোকা জুনিয়র্সে
তার সঙ্গে খেলাটাও ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা।’
ম্যারাডোনার সঙ্গে তার চুমু
ফুটবল বিশ্বে এখনও আলোচিত। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেই বিখ্যাত চুমুর ব্যাপারটি
আসলে খুব স্বাভাবিক ছিল। সে করতে চেয়েছিল, আমরা করেছি। এর মধ্যে অন্য কিছু
ছিল না। এটি ছিল দুই বন্ধুর বন্ধুত্বপূর্ণ চুমু।’
বাংলাদেশে
আর্জেন্টিনার অনেক ভক্ত। সামাজিক মাধ্যমের জন্য এটি এখন বেশ আলোচিত হলেও
ক্যানিজিয়া বাংলাদেশ সম্পর্কে নাকি আগে থেকেই জানেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন,
‘১৯৮৬ সালের পর থেকেই আমি জানি, বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে
অনুসরণ করে। প্রথমবার বাংলাদেশে এসে মানুষের কাছাকাছি থেকে তাদের ভালোবাসা
দেখার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য দারুণ আনন্দের। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়
আর্জেন্টিনার সমর্থক আছে; কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মতো এত আবেগ ও
ভালোবাসা খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।’
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ খেলে না।
বিশ্বকাপের সময় সারাবিশ্বে বাংলাদেশের উন্মাদনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রেস কনফারেন্সেও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ আসে।
স্বাভাবিকভাবেই অনেকের জিজ্ঞাসা বাংলাদেশ কবে বিশ্বকাপ খেলবে? ক্যানিজিয়া
বাংলাদেশ নিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে জায়গা করে
নেয়া সব সময়ই কঠিন। তবে আমি আশা করি, বাংলাদেশ আগের চেয়ে আরও ভালো করবে এবং
এগিয়ে যাবে। বিশ্বকাপে এখন ৪৮টি দল খেলছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরও বেশি দল
খেলবে। ফলে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশও
একদিন বিশ্বকাপে খেলবে।’
ঢাকা আন্তঃস্কুল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের
বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দিতেই বাংলাদেশে এসেছিলেন ক্যানিজিয়া। বৃষ্টির
জন্য তিনি পুরো খেলা দেখতে পারেননি। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়ালকে
(বিআইটি) হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় নৌবাহিনী কলেজ।
