
বাংলাদেশের টেস্ট
ক্রিকেট ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে বড় জয়ের দেখা পাওয়া গেল। রোববার চার দিনেই
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল। হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজের
দুর্দান্ত বোলিং ও তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে
তারা। এই ম্যাচে কী কী কীর্তি হলো, পরিসংখ্যানে দেখে নেওয়া যাক-
১
অস্ট্রেলিয়ায়
তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতল। ডারউইনে ৯ উইকেটে জয়
পেয়েছে তারা। এর আগে দুইবার, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি টেস্ট খেলে
দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে
সাত ম্যাচে এটি দ্বিতীয় জয়। ২০১৭ সালে মিরপুরে অজিদের বিপক্ষে প্রথম জয়
এসেছিল।
সফরকারী দলের মধ্যে কেবল ইংল্যান্ড (২) বাংলাদেশের চেয়ে কম
ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ায় একটি টেস্ট জিতেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকাও তিনবারের
প্রচেষ্টায় প্রথম জয় পেয়েছিল।
৩
গত ১৫ বছরে তৃতীয়বার টস
জেতার পর ঘরের মাঠে টেস্টে হারল অস্ট্রেলিয়া। অন্য দুটি ছিল ভারতের
বিপক্ষে, ২০২০-২১ এ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও গ্যাবায়।
২০২৩ সালে ওভালে অনুষ্ঠিত অ্যশেজ টেস্টের পর প্রথমবার টস জিতে হার দেখল অস্ট্রেলিয়া। এর মাঝে তারা ৯ বার টস জিতে প্রত্যেকবার জিতেছে।
১০
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসার ১০ উইকেট নেন। এক টেস্টের ইনিংসে দ্বিতীয়বার তাদের পেসার ১০ উইকেটের সবগুলো নিয়েছে।
ডারউইনে দুই ইনিংস মিলে ১৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা। এক টেস্টে তাদের যৌথ সর্বোচ্চ।
৯/১১১
ডারউইনে
হাসান মাহমুদের বোলিং ফিগার। এক টেস্ট ম্যাচে এটি বাংলাদেশের ফাস্ট
বোলারের জন্য দ্বিতীয় সেরা। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন, টেস্টে
বাংলাদেশের কোনো পেসারের জন্য যা তৃতীয় সেরা।
অস্ট্রেলিয়ায় কোনো
সফরকারী বোলারের অভিষেকেই এটি তৃতীয় সেরা ম্যাচ ফিগার। ১৯৯০ সালে
পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম মেলবোর্নে এবং ১৯২৪ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের
মরিস টেট ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন, দুজনে যথাক্রমে ১৬০ ও ২২৮ রান দেন।
১৯৮
ডারউইনে
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাটিং
করে প্রথম ইনিংসে কোনো দলের সর্বনিম্ন স্কোর। টেস্টে এটা বাংলাদেশের
বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
২০১৯
অস্ট্রেলিয়ায় পুরুষ
টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৯ সালে
ভারতের কুলদীপ যাদবের পর প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন
তিনি।
২০১৩ সালের পর থেকে কেবল এই দুজনই সফরকারী স্পিনার হিসেবে
অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ২০০০ সালের পর মিরাজ ছাড়া কেবল একজন
সফরকারী অফস্পিনার অস্ট্রেলিয়ায় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন—২০১০ সালে
অ্যাডিলেডে যে কীর্তি গড়েন ইংল্যান্ডের গ্রায়েম সোয়ান।
ডারউইনে হাফ
সেঞ্চুরিও করেছেন মিরাজ। একই টেস্টে চতুর্থবার তিনি পঞ্চাশের বেশি রান ও
ফাইফার পেলেন। এর মধ্যে দুটি ছিল অ্যাওয়ে টেস্টে।
৩৩
অস্ট্রেলিয়ায়
প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে ক্যামেরন গ্রিনকে ঘরের মাঠে ৩৩ ইনিংস খেলতে
হলো। অস্ট্রেলিয়ায় অভিষেক টেস্ট পেতে তার চেয়ে বেশি ইনিংস খেলেছেন কেবল
ইয়ান হিলি (৪১) ও বব সিম্পসন (৩৬)।
৯
জশ হ্যাজলউড নবম বোলার
হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩০০ টেস্ট উইকেটের মালিক হয়েছেন। আগের আটজনের
মধ্যে তিনজনই ছিলেন ডারউইন টেস্টের একাদশে—নাথান লায়ন, প্যাট কামিন্স ও
মিচেল স্টার্ক। প্রথমবার একই একাদশে তিনশর বেশি উইকেট পাওয়া চার বোলারের
খেলার নজির তৈরি হলো।
৩
অধিনায়ক হিসেবে দেশের বাইরে তৃতীয়বার
টেস্ট জিতলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, কোনো বাংলাদেশি অধিনায়কের এটিই সর্বোচ্চ।
তার আগের দুটি অ্যাওয়ে টেস্ট জয় ছিল ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে। অবশ্য ৯ জয়
নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কের মর্যাদা পেয়েছেন
তিনি।
৬
অধিনায়ক হিসেবে কামিন্স আটটি দলের মধ্যে ছয়টির
বিপক্ষেই টেস্ট হেরেছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম। এর আগে ছয়জন
অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট অধিনায়ক পাঁচটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত
হয়েছেন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে
কামিন্স অপরাজিত।
