
ডারউইন
টেস্টের দ্বিতীয় দিনটাও বাংলাদেশের দখলে। ব্যাট হাতে দারুণ এক দিন কাটিয়ে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে খেলা শেষ করেছে নাজমুল হোসেন
শান্তর দল। দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। মেহেদী হাসান
মিরাজ ৩২ ও হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত।
তবে দিনের শেষ বলেও নাটক কম
হয়নি। লাবুশেনের করা দিনের শেষ বলে অফ স্টাম্পের বাইরে লেন্থ ডেলিভারিতে
কাট খেলেন মিরাজ। বলটি নিচু হয়ে ক্যামেরন গ্রিনের দিকে গেলেও ক্যাচটি হাতে
জমাতে পারেননি তিনি। ফলে শেষ বলেও উইকেটের সম্ভাবনা তৈরি করেও সাফল্য পায়নি
অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের জন্য দিনটি অবশ্য শুরু হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ১
উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে তানজিদ হাসান তামিম ও
মুমিনুল হক। দুজন মিলে গড়েন ১০২ রানের জুটি। এরপর ১৮৮ বলে ক্যারিয়ারের
প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের
প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার ইতিহাসও গড়েন তিনি। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন
এই বাঁহাতি।
তানজিদের বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে
এগিয়ে নিতে থাকেন মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে। তবে অস্ট্রেলিয়ার হাতে তখনও
একটা অস্ত্র ছিল; সেটা হচ্ছে ইনিংসের দ্বিতীয় নতুন বল। যে লেন্থের বলগুলো
একটু আগেও সুন্দর কাভারে বা অফে ড্রাইভ খেলা যাচ্ছেল, সেগুলো স্কিট করতে
লাগল।
আর ফাঁদে পড়েই জশ হ্যাজলউডের বলে ৮৪ রানে ফেরেন কাপ্তান নাজমুল।
এরপর মিচেল স্টার্কের বলে কোনো রান না করে লিটন দাস এবং প্যাট কামিন্সের
বলে ৩৬ রানে মুশফিকুর রহিম আউট হলে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড ৬ উইকেটে ৩১২
রানে পরিণত হয়। তিনটা বলই প্রায় একই ধরনের ছিল। অফস্টাম্পের বাইরে পড়ে
আউটসুইং হচ্ছিল। টেস্টে বাংলাদেশের সেরা তিন ব্যাটসম্যান নাজমুল, লিটন ও
মুশফিক প্রায় একই ধরনের শট খেলে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচে পরিণত হন।
সেখান
থেকে মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ব্যাটে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। প্রথম
ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে এখন সফরকারীদের লিড ১৫৩ রান। আর দিনের
শেষ বলের ক্যাচটি গ্রিনের হাতছাড়া হওয়া যেন দ্বিতীয় দিনতাও বাংলাদেশের
জন্য মধুর হইয়েই থাকল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৯৮
বাংলাদেশ
১ম ইনিংস: (আগের দিন ৯৬/১) ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (তানজিদ ১০১, মুমিনুল ৪৯,
শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; স্টার্ক ২১-২-৬৮-২,
হেইজলেউড ২০-৩-৬৮-২, গ্রিন ৮-২-২৬-০, কামিন্স ২০-৩-৫০-১, লায়ান ২৫-১-৯২-১,
ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৩-০, লাবুশেন ৪-১-৪-০)
