
ডারউইনের আকাশে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরছে, অস্ট্রেলিয়া কি টেস্টটাকে পঞ্চম দিনে নিতে পারবে? তৃতীয় দিন শেষে হিসাব বলছে, কাজটা স্বাগতিকদের জন্য কঠিন। আর বাংলাদেশের জন্য? চতুর্থ দিনেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ।
দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা। অর্থাৎ ম্যাচে ফেরার জন্য আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে প্যাট কামিন্সের দলকে। হাতে আছে ৬ উইকেট, দুই দিন এখনো বাকি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যে বাংলাদেশের হাতে, সেটি নিয়ে সংশয়ের জায়গা খুব কম।
বাংলাদেশের এই অবস্থানের পেছনে দিনের শুরুতে লেজের ব্যাটসম্যানদের অসাধারণ প্রতিরোধ বড় কারণ। ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়েছে ৪২৬ রানে। অর্থাৎ সকালে আরও ৭৪ রান যোগ করেছে তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজের, ১৫৪ বলে ৬৫ রানের পরিণত ইনিংস দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
মিরাজকে ঘিরে একে একে লড়াই করেছেন হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এই প্রতিরোধই বাংলাদেশের লিডকে নিয়ে গেছে ২২৮ রানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রথম ইনিংসের রানও এসেছে এই ইনিংসে। সর্বোচ্চ ৪২৭, ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাই বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির। হাসান মাহমুদ ফিরিয়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে। এরপর তাইজুলের বলে বোল্ড হয়েছেন মারনাস লাবুশেন। আর ৪৪ রানের স্টিভ স্মিথকে ফিরিয়ে বড় ধাক্কাটি দিয়েছেন মিরাজ।
স্মিথের উইকেটের পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ১২২ রানে ৪ উইকেট। সেখান থেকে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। দিন শেষে ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টেনে রেখেছেন দুজন।
তবু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে আর কতক্ষণ?
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিডের পর অস্ট্রেলিয়াকে এখন শুধু ম্যাচ জিততে নয়, ম্যাচ বাঁচাতেও অসাধারণ কিছু করতে হবে। প্রথম ইনিংসে এত বড় ঘাটতি পেরিয়ে ঘরের মাঠে জেতার নজির তাদের নেই। ফলে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটাই হতে পারে ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দেওয়ার সময়।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন একটাই পথ, ব্যাট করতে হবে, অনেকক্ষণ ব্যাট করতে হবে। আর বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য আরও পরিষ্কার; সকালের শুরুতেই কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের দরজা আরও খুলে দেওয়া।
তৃতীয় দিন শেষে তাই ডারউইনের হিসাবটা পরিষ্কার। অস্ট্রেলিয়ার হাতে আচে সময়, বাংলাদেশের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। চতুর্থ দিনেই কি শেষ হবে গল্পটা?
