
উন্নত
জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ১৭ বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার হৃদয়নগর গ্রামের কামাল উদ্দিন বাবুল। দীর্ঘ
প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছিলেন সুন্দর একটি পরিবার। ৪ বছর আগে
স্ত্রী ও সন্তানদেরও ইতালিতে নিয়ে যান তিনি। তবে রোমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে
বাবুল, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশার মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন থেমে যায়।
দীর্ঘ ১ মাস ১৯ দিন পর শুক্রবার দেশে ফিরেছে তাদের মরদেহ।
শুক্রবার (১৪
আগস্ট) সকালে বাংলাদেশে পৌঁছায় তিনজনের মরদেহ। পরে বিকেলে তিনটি কফিন যখন
গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন হৃদয়নগর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একই পরিবারের তিনজনের
মরদেহ একসঙ্গে দাফনের প্রস্তুতিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা
জানান, গত বছর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য পারিবারিক কবরস্থানে মাটি ফেলেছিলেন
বাবুল। তখন কেউ ভাবেননি, এক বছরের ব্যবধানে সেই কবরস্থানেই চিরনিদ্রায়
শায়িত হতে হবে তাকে। যে বাবা-মায়ের জন্য কবরস্থান প্রস্তুত করেছিলেন, আজ
সেই বাবা-মাকেই ছেলের দাফন দেখতে হচ্ছে।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর স্থানীয়
শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে তিনজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজায়
অংশ নিতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি
নিচ্ছেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তিনটি কবরে তাদের দাফন করা হবে।
বাবুলের
স্বজন মো. ইউনুস বলেন, বিদেশে গিয়েছিলেন পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে কিন্তু শেষ
পর্যন্ত তিনটি কফিন হয়ে ফিরলেন। এমন দৃশ্য আমরা কোনো দিন দেখিনি। পুরো
পরিবারটা শেষ হয়ে গেল।
আরেক স্বজন মো. তানিম বলেন, একসঙ্গে তিনটি কবর খোঁড়া হয়েছে। গ্রামের মানুষ কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না। আমরা শুধু বিচার চাই।
এদিকে,
হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেন এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায়
ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, ঘটনার এতদিন পরও অভিযুক্তকে
আইনের আওতায় আনা যায়নি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয়
বাসিন্দা মো. আজাদ বলেন, ইতালীয় পুলিশ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে।
কিন্তু এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আমরা চাই, দ্রুত তাকে আটক করে
বিচারের মুখোমুখি করা হোক।
স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র
সন্তান অয়ন গুরুতর আহত অবস্থায় মা-বাবা ও বোনের মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরেছে।
পরিবারের সদস্যদের হারানোর শোক ও নিজের শারীরিক অবস্থার কারণে সে এখনো
স্বাভাবিক হতে পারেনি।
শোকাহত স্বজন ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি- দ্রুত
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তাদের ভাষায়,
তিনটি প্রাণ ঝরে গেছে, কিন্তু বিচার যেন হারিয়ে না যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৬
জুন ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নোয়াখালীর
কোম্পানীগঞ্জের প্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশু কন্যা
আরিশা। ঘটনার পর ইতালীয় পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনের ছবি
প্রকাশ করে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি
পলাতক রয়েছেন।