শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
নিষেধাজ্ঞার পরও অনলাইনে রমরমা জমজমের পানি বিক্রি
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০২ এএম |



নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সৌদি আরবের পবিত্র জমজম কূপের অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পণ্য বিক্রির ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে জমজমের পানি সরবরাহের কথা বলে প্যাকেজ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার নির্দিষ্ট মূল্যে ‘অরিজিনাল জমজমের পানি’ সরবরাহের দাবি করা হচ্ছে।
দেখা গেছে, সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি বেশকিছু অনলাইন সাইটে ‘ফ্রি জমজমের পানি’ দেওয়ার কথা বলে রুকাইয়াহ পেপার ও আজওয়া খেজুরের প্যাকেজ ৯৯০ টাকায় বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেখা গেছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ার ও ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে।
তাহারাত জোন, মানার নামের ফেসবুক পেজে জমজমের পানি সরাসরি বিক্রির বিজ্ঞাপন রয়েছে। আরও এমন অনেক সাইট রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে এই পানির উৎস বা এগুলো সত্যিই জমজমের পানি কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করার তথ্য সাইটটিতে পাওয়া যায়নি।
দেশে সুনির্দিষ্ট আমদানি তথ্য প্রমাণ ছাড়া ‘জমজমের পানি’ বিক্রি বৈধ নয়। আর সৌদি আরব এ পবিত্র কূপের পানি বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে এমন কোন তথ্যও নেই। ফলে, ২০২৩ সালে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এ পানি দোকানে বা অনলাইনে বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে বাণিজ্যিকভাবে জমজমের পানি বিক্রির তথ্য পায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ওই সময় বিভিন্ন দোকানে ২৫০ মিলিলিটার ও পাঁচ লিটারের বোতলে জমজমের পানি বিক্রি হচ্ছিল। ছোট বোতল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল আড়াই হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রির তথ্যও পাওয়া যায়।
এরপর ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান খোলা বাজারে জমজমের পানি বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অমান্য করলে দোকান সিলগালা করার কথাও বলা হয়। শুধু দোকান নয়, ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যারা জমজমের পানি বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদপ্তর।
তখন মূল প্রশ্ন ছিল-বাজারে বিক্রি হওয়া পানিগুলো আদৌ জমজমের পানি কি না এবং এগুলোর উৎস কী। বায়তুল মোকাররমের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, হজযাত্রীরা সৌদি আরব থেকে জমজমের পানি নিয়ে আসেন এবং তাদের কাছ থেকে কিনে তা বিক্রি করা হয়। তবে, পানি কোথা থেকে এসেছে বা এর সত্যতা যাচাইয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ অনেক বিক্রেতা দেখাতে পারেননি।
২০২৩ সালের পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য বাজারে তৎপরতা কমলেও অনলাইনে এর উপস্থিতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জমজমের পানি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে।
ফলে, ভোক্তাদের স্বার্থে এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের স্পষ্ট অবস্থান ও অনলাইন বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নতুন করে নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২