"চোখের
পলকে আমার সব শেষ হয়ে গেল! আমার পেটের পিঠের ভাইয়ের মতো গবাদিপশুগুলো
চোখের সামনে পুড়ে ছাই হলো, আমি কিছুই করতে পারলাম না..." কথাগুলো বলতে বলতে
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের বল্লভদী গ্রামের হতদরিদ্র
কৃষক মোস্তফা মিয়া বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বুধবার দিবাগত রাতের এক ভয়াবহ
অগ্নিকাণ্ড তাঁর জীবনের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট
সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিল একটি খেটে খাওয়া মানুষের
বেঁচে থাকার সবটুকু অবলম্বন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত
রাত আনুমানিক ২টার দিকে বল্লভদী চকের বাড়ির বাসিন্দা কালা মিয়ার ছেলে
মোস্তফার গোয়ালঘরে হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়ে পুরো গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
গবাদিপশুর ছটফটানি, আর্তনাদ আর আগুনের তীব্র তাপে ঘুম ভেঙে যায় মোস্তফার
পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও আগুনের তীব্রতা
এত বেশি ছিল যে কাছে যাওয়াও সম্ভব হয়নি। চোখের পলকেই গোয়ালঘরে থাকা ৪টি
তাজা গরু এবং ৪টি ছাগল জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
দরিদ্র
কৃষক মোস্তফার আয়ের একমাত্র উৎস ছিল এই গবাদিপশুগুলো। সারাদিন মাঠে পরিশ্রম
করে যা জমাতেন, তার প্রায় পুরোটাই বিনিয়োগ করেছিলেন এই ষাঁড় ও ছাগলগুলোর
পেছনে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে তাদের গোয়ালঘরসহ
প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ হারিয়ে
পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও দিশেহারা।
ঘটনার পর থেকেই বল্লভদী
গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটাই
দাবি এই দরিদ্র পরিবারটিকে বাঁচাতে অবিলম্বে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হোক।
প্রশাসন ও দানশীল ব্যক্তিরা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে হয়তো
ঘুরে দাঁড়ানোর একটু স্বপ্ন দেখতে পাবেন নিঃস্ব মোস্তফা।
