নিজস্ব
প্রতিবেদক: চালকদের ঘুম ভাঙানোর অ্যালার্ম চশমা, ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ ও
মুরগির পালক থেকে পরিবেশ বান্ধব বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক, মানুষের হাঁটার
শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কাঠের টুকরা ও ভাতের মাড় দিয়ে তৈরি আধুনিক
পেভার ব্লক এমন সব ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্ভাবন নিয়ে জমে উঠেছিল
কুমিল্লার সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ‘ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। দিনব্যাপী এ
মেলায় শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প দর্শনার্থীদের ব্যাপক
আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
বুধবার কুমিল্লার কোটবাড়ির লালমাই
পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সিসিএন ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ মেলায় শিক্ষার্থীদের
সৃজনশীলতা, গবেষণাধর্মী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধান, উদ্যোক্তা
মনোভাব এবং প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মোট ৩৯টি
প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। স্মার্ট টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট, গ্রিন
ইনোভেশন, স্টার্টআপ অ্যান্ড বিজনেস ইনোভেশন, জেনারেল ইনোভেশনসহ মোট ছয়টি
ক্যাটাগরিতে এসব প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, প্রকল্পগুলো
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য
রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষে মেলার
উদ্বোধন করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র
রায়। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও
প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার প্রশংসা করে বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের
মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। তিনি ভবিষ্যতে
গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত
উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার
বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক
ইউসুফ মোল্লা টিপু। সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী
অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল
নাছের, লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন ও নজরুল পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আলী
হোসেন চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান, সিসিএন পলিটেকনিক
ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তানজিনা ইসলাম চৌধুরী সিনথিয়া এবং
জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক সোহাগ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিসিএন
শিক্ষা পরিবারের ডেপুটি সিইও ইফতেখারুল ইসলাম চৌধুরী সিয়াম।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, বিশ্ব এখন প্রযুক্তিনির্ভর।
সিসিএনের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে, তারা
কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প আগামী দিনের
বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প
বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা গেলে কুমিল্লার উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার
উন্মোচিত হবে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও নগর
উন্নয়নে শিক্ষার্থী-গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি
প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে
প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মেলায় প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে
‘অ্যান্টি স্লিপ অ্যালার্ম ফর ড্রাইভার’ প্রথম, ‘স্মার্ট ব্লাড ডোনেশন
অ্যান্ড সার্চিং’ দ্বিতীয়, ‘স্মার্ট ড্রেনেজ সিস্টেম’ তৃতীয়,
‘বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক’ চতুর্থ এবং ‘ন্যাচারাল ফাইবার রিইনফোর্সড পেভার
ব্লক’ পঞ্চম স্থান অর্জন করে। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার
তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী শিক্ষা,
প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প ও সমাজের
বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করবে।
