ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের বারেশ্বর থেকে মালাপাড়া হয়ে
দেবীদ্বার-কুমিল্লা সংযোগ সড়কে মেলানো গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন খানাখন্দে
জর্জরিত। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে দীর্ঘ সময় পার হলেও এই সংযোগ
সড়কে লাগেনি কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে সাহেবাবাদ ও মালাপাড়া—এই দুই
ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন মারাত্মক ঝুঁকি ও
কষ্ট সহ্য করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়ক
জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে পানি
জমে কাদায় একাকার হয়ে যায়। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার মাঝখানে ছোট-বড় ডোবার
মতো তৈরি হয়েছে, যার ওপর দিয়ে ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ নানা যানবাহন হেলেদুলে
ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। হেঁটে চলার মতো ন্যূনতম পরিবেশও সড়কটিতে নেই।
সড়কে
চলাচলরত স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “ব্যবসার কাজে প্রতিদিন এই
রাস্তা দিয়ে মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয়। রাস্তার যে বেহাল অবস্থা, তাতে
প্রায়ই গাড়ি উল্টে মালামাল নষ্ট হয়। বর্ষার দিনে কাদা-পানির কারণে আমাদের
চলাফেরা একদম অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।”
সড়কের পাশের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম
ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাড়ির সামনে সড়ক হলেও বের হওয়ার কোনো উপায় নেই।
২০২৪ সালের বন্যার পর রাস্তাটা পুরোপুরি ভেঙে যায়। তিন বছর পার হয়ে গেলেও
কেউ এসে একটা ইটও ফেলেনি। ছোট ছোট স্কুলগামী বাচ্চা আর বয়স্কদের নিয়ে আমরা
সবচেয়ে বেশি বিপদে আছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৫
নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) জাকির হোসেন বলেন, “সড়কটির বেহাল দশার
কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। আমরা বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছি।”
সাহেবাবাদ
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “২০২৪ সালের বন্যার
পর থেকে সড়কটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাজেট বরাদ্দ ও
অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে সংস্কার কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে
আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু করে জনগণের এই
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত যেন এই
গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করে দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের
স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
