
৫২
বছর পর আবার ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরছে হাইতি। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাদের জার্সি। কারণ, বিশ্বকাপের জন্য তৈরি তাদের
নতুন জার্সিতে জায়গা পেয়েছে পোল্যান্ডের জাতীয় পতাকা। বিষয়টি নিয়ে
স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
বিশ্বকাপের জন্য হাইতির
হোম ও অ্যাওয়ে দুই জার্সিরই কোমরের কাছে দেখা যাচ্ছে পোল্যান্ডের সাদা-লাল
পতাকা। এটি কোনো নকশাগত ভুল নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা
জানানোর প্রতীক। সাড়া জাগানো এই জার্সির পেছনে লুকিয়ে আছে ২২০ বছরের
পুরোনো ইতিহাস।
হাইতির জার্সিতে পোল্যান্ডের পতাকা কেন?
ঘটনার শিকড়টা
স্বাধীনতার সংগ্রাম ঘিরে। ১৮০২ সালে হাইতি ছিল ফ্রান্সের উপনিবেশ।
স্বাধীনতার দাবিতে তারা যখন ফরাসি শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে, তখন
বিদ্রোহ দমনে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রায় ৫ হাজার পোলিশ সৈন্য পাঠান সেন্ট
ডোমিনিগে। উদ্দেশ্য ছিল ফরাসি বাহিনীকে সহায়তা করা।
কিন্তু হাইতিতে
পৌঁছে পরিস্থিতি বদলে যায়। স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত হাইতিয়ানদের সঙ্গে
নিজেদের মিল খুঁজে পান পোল্যান্ডের সৈন্যরা। সে সময় পোল্যান্ডকে শাসন করতো
রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া। ফলে হাইতির জনগণের মতো তাদের কাছেও স্বাধীনতার
আকাঙ্ক্ষা ছিল খুব পরিচিত।
এরপর পোলিশ সেনাদের একটি বড় অংশ ফরাসি বাহিনী
ছেড়ে হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পাশে দাঁড়ায়। তাদের সহায়তায় শক্তিশালী
হয় বিদ্রোহ, শেষ পর্যন্ত পোল্যান্ড সৈন্যদের সহায়তায় ১৮০৪ সালে স্বাধীনতা
অর্জন করে হাইতি।
স্বাধীনতার পর হাইতির প্রথম শাসক জ্যঁ-জ্যাক দেশালিন্স
পোলিশ সৈন্যদের এই অবদানের কথা স্বীকার করেন। এমনকি শ্বেতাঙ্গদের
নাগরিকত্ব ও ভূমির অধিকার সীমিত থাকলেও পোলিশদের জন্য ছিল বিশেষ ছাড়। প্রায়
৫০০ পোলিশ সৈন্য তখন হাইতিতেই স্থায়ীভাবে থেকে যান।
হাইতির স্বাধীনতা
অর্জনের সেই ইতিহাস ২০০ বছর অতিক্রম করেছে। কিন্তু মিত্র পোল্যান্ডের প্রতি
সম্মান প্রদর্শনে এখন পর্যন্ত কোনো কমতি দেখায়নি দেশটি। ফুটবল বিশ্বকাপে
তাই নিজেদের জার্সি পোল্যান্ডের জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি করেছে হাইতি।
