প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২১ এএম আপডেট: ২৪.০৪.২০২৬ ২:০৭ এএম |

ঠিকাদারের অবহেলায় ঐতিহাসিক কুমিল্লা টাউন হল ও বীরচন্দ্র গণপাঠাগার সংস্কার কাজ স্থবির হয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাইরে থেকে রঙের কাজ শেষ করা হলেও ভেতরে এখনো বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও সরবরাহ বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন টাউন হল কর্তৃপক্ষ। এতে নগরবাসীর গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই মিলনায়তনে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও ঠিকাদারি কোম্পানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেসার্স প্যারেন্টস্ এন্ড সন্স এর প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, অভিযোগ ঠিক নয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা টাউন হলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবীর সাজ্জাদ জানান, ঠিকাদার কি কাজ করেছে আমরা বুঝতে পারছি না। ছাদে নতুন টিন লাগানোর পরও বৃষ্টির পানি পরে। এসি লাগে নাই, সিট বসে নাই, ফ্যান নাই, পাঠাগারের আসবাবপত্র নাই, কর্মকর্তাদের কক্ষের আসবারও নাই। একবছর হয়ে গেছে কাজের অগ্রগতি নাই। মাঠের সৌন্দয্যবর্ধনের জন্য যে বাজেট রাখা হয়েছিলো তাও কাজে লাগে নাই। সব কিছুই নাই নাই। এদিকে কুমিল্লা টাউন হলে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায় না। দুই বছরেরও বেশি সময় এই ঐতিহাসিক মিলনায়তন অব্যবহৃত পরে আছে।

টাউন হল সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা টাউন হল ও বীরচন্দ্র গণপাঠাগার। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকার পতনের দিন বিক্ষুব্ধদের দেয়া আগুন ও ভাংচুরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রায় ১৪০ বছর বয়সী এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি। আসবাবপত্র ভাংচুর ছাড়াও পাঠাগারের মূল্যবান বই ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট। আগুন দেয়া হয় বেশ কয়েক জায়গায়। পরবর্তিতে এই টাউন হল ও পাঠাগার সংস্কারের উদ্যোগ নেয় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও সুধীসমাজের অংশগ্রহনে তৈরী হওয়া সংস্কার কমিটি। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় এই সংস্কার কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সেসময় এই উন্নয়ণ কাজের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল ও ডিজাইন ঠিক করে দেন জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার। এই উন্নয়ণ কাজের বাজেট ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ধার্য হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্যারেন্টস্ এন্ড সন্স সর্বনিম্ন দর দিয়ে এই সংস্কার কাজ শুরু করে। যার মধ্যে টাউন হলের মূল ভবন, মিলনায়তন, পাঠাগার, মাঠ ও পুকুর সংস্কার কাজ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। তবে গত এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন করতে পারেনি বরং কাজের ব্যয় বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঠিকাদারি কোম্পানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেসার্স প্যারেন্টস্ এন্ড সন্স এর প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের বাজেটের সাথে কাজের সমন্বয় হচ্ছে না। ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় আমরা কাজ পেয়েছি। প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ। টেন্ডার বাজেট ও কাজে কিছুটা সমন্বহীনতা হওয়ায় আমরা কাজের বাজেট রিভাইস চেয়ে মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি।
কুমিল্লা টাউন হলের সংস্কার কাজে অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া জানান, যে ঠিকাদার কাজ করছে সে আমাদের সময়ের না, আগের প্রশাসক থাকতে তিনি কাজ নিয়েছেন। কিন্তু কাজটা যেভাবে অগ্রগতি হওয়ার কথা সেভাবে হয় নি। আমার অধীনে যত উন্নয়ন কাজ যাদের হাতেই আছে তাদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে এই কাজগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা জন্য। না করলে আমরা আমাদের প্রকল্প বাতিল করারও ক্ষমতা রাখি। আমি ইতিমধ্যে টাউন হলের ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েছি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করেন তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের খুব সম্ভব আর এক দেড় মাস সময় আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা টাউন হলের কার্যনির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা প্রশানক মু. রেজা হাসান বলেন, খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে আপনাকে জানাতে পারবো