যখন
এই লিখাটি লিখছি ১৭ রামাদ্বান ১৪৪৭ হিজরী, ০৭/০৩/২০২৬ খ্রিঃ শনিবার।
ইসলামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। ইসলামের ও মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ "বদরের
যুদ্ধ"। এই যুদ্ধে আল্লাহ তায়ালার সরাসরি সাহায্যে মুসলমানগণ বিজয় লাভ
করেন। মুসলমানগণ তাই এই দিবসকে বদর দিবস হিসাবে উদযাপন করে আসছে। এর আরেকটি
নামও আছে "ইয়াওমুল ফোরকান" সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী দিবস। ২য় হিজরীর
১৭রামাদ্বান ১৩মার্চ ৬২৪ খ্রিঃ মদিনার মুসলমান ও মক্কার কাফের কুরাইশদের
মাঝে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এতে মুসলমানদের সৈন্য ও অন্যান্য অবলম্বন ছিল
খুবই কম। পক্ষান্তরে কাফেরদের সৈন্য ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিল মুসলমানদের
তুলনায় বহুগুণ। মুসলমানগণ মদিনায় হিজরত করে চলে যাওয়ার পরও মক্কার কাফেরদের
অব্যাহত অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের কারণে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বদরের যুদ্ধে
মুসলমান ও কাফেরদের প্রস্তুতির একটি চিত্র নিম্নরূপঃ
মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা-৩১৩ -- কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা-১০০০
মুসলমানদের ঘোড়ার সংখ্যা- ২-৩টি -- কাফেরদের ঘোড়ার সংখ্যা-১০০টি
মুসলমানদের উট সংখ্যা-৭০টি -- কাফেরদের উট সংখ্যা-৭০০টি
এই
যুদ্ধে মুসলমান বিজয় অর্জন করেন শুধুমাত্র ঈমানী ত্যাজদীপ্ততা ও মহান
আল্লাহর উপর অগাধ আস্থা এবং রাসুলে কারিম দঃ এর পূর্ণ অনুসরণের কারণে। এই
যুদ্ধের সেনাপতি ছিলেন স্বয়ং রাসুলে করিম দঃ। আর আল্লাহ তায়ালাও সরাসরি
মুসলমানদের সাহায্য করেছেন। মহান আল্লাহ কুরআনুল কারিমে ঘোষনা করেন- বদরের
যুদ্ধে মহান আল্লাহ তোমাদের সরাসরি সাহায্য করেছেন অথচ তোমরা ছিলে দূর্বল।
কাজেই তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। সুরা
আল ইমরান, আয়াত নং-১২৩।
এই যুদ্ধে মুসলমানদে ১৪ জন সাহাবা রাঃ শহীদ হন।
আর কাফেরদের নেতা ও ইসলামের পরম শত্রু আবু জাহেল সহ ৭০ জন নিহত হয় ও ৭০ জন
কাফের বন্দি হয়। এই যুদ্ধের বিজয় ইসলামী শক্তির প্রকাশ ঘটে এবং মুসলিম
রাষ্ট্রেকে শক্তিশালী করে সাথে সাথে আরবে ইসলামের প্রভাব বৃদ্ধি করে।
ঈমানী
চেতনা বহাল থাকলে সংখ্যা বা প্রস্তুতি কোন ব্যাপার নয়। বিজয় অনিবার্য। ৩১৩
জন রোজাদার সৈনিক অন্যদিকে কাফেরদের ১০০০ ও অন্যান্য বিশাল প্রস্তুতির
বিরুদ্ধে বিজয় এই বদরের যুদ্ধ তার উজ্জল প্রমান। ঈমান যদি সুদৃঢ় হয় মহান
আল্লাহর সাহায্য নিশ্চিত। তাইতো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষনা করেন- তোমরা
নিরাশ হয়োনা এবং দুঃখ করোনা, তোমরাই জয়ী হবে যদি তোমরা (সত্যিকারের)
ঈমানদার হও। সুরা আলে ইমরান,
আয়াত নং-১৩৯। সেই আল্লাহ তায়ালার সাহায্য
এখনও বিরাজমান শুধু আমাদের ঈমানকে তাজা করতে হবে এবং সেই ঈমানের প্রমান
দিতে হবে মুখে নয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের হুকুমের অনুসরণের মাধ্যমে। তবেই
আমরা সর্বক্ষেত্রে বিজয় অর্জন করার পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি ধাপে সফলকাম
হবো। মহান আল্লাহ শোহাদায়ে বদর রাঃ ও মাগফিরাতের অংশের উছিলায় আমাদের
গুনাহগুলি ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে ত্যাজদীপ্ত ঈমান নসীব করুন। আমীন
বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালি।
লেখক: প্রধান ইমাম ও খতীব, কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা
