যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের
সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১২টি জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে। বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহেই
পৌঁছাবে।
এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি),
দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টিতে সিমেন্টশিল্পের
কাঁচামাল ক্লিংকার রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ
বিশেষ করে ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব
থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনা-নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট
অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জাগো নিউজকে বলেন,
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে যেসব জাহাজ হরমুজ
প্রণালি ছেড়ে এসেছিল সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। কয়েকটি জাহাজ পথিমধ্যে
রয়েছে। দুই-একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালির ভেতরে বা কাছাকাছি বন্দরে আছে।
তিনি
বলেন, সরকার নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছে। শিপিং লাইন, জাহাজ মালিক, পণ্যের
মালিক ও মেরিনাররা যুদ্ধের আপডেটে নজর রাখছেন। যদি হরমুজ প্রণালিতে হুমকি
না থাকে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে
জানা গেছে, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল
জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া
এলপিজি নিয়ে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ আগামীকাল রোববার (৮ মার্চ) পৌঁছানোর
কথা রয়েছে। আগামী সোমবার (৯ মার্চ) ‘লুসাইল’ এবং বুধবার (১১ মার্চ) ‘আল
গালায়েল’ নামের আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব
মিলিয়ে এই চার জাহাজে এলএনজি রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন।
সিমেন্টশিল্পের
কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল
রয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আনা হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য।
