রণবীর ঘোষ কিংকর।
কুমিল্লার
চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজারে পৃথক দুইটি বাজার পরিচালনা কমিটি ঘোষণাকে
কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। একই বাজারে দুইটি কমিটি গঠনের
ঘটনায় ব্যবসায়ী ও ইজারাদারের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, মাধাইয়া বাজার পরিচালনা কমিটির আগের সভাপতি ছিলেন কেএম
জামাল এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আনিছুর রহমান। তবে আনিছুর রহমান কে বাদ
দিয়ে মোরশেদ আলম নাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন করে ৬৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি
বাজার পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এর পরদিন ৪ মার্চ বিকেলে আব্দুস
সামাদ আড়ৎদারকে সভাপতি ও খায়রুল কবির কে সাধারণ সম্পাদক করে ৮১ সদস্য
বিশিষ্ট আরেকটি বাজার পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করা হয়। ফলে একই বাজারে দুইটি
কমিটি সক্রিয় হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুটি কমিটির
পেছনে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব রয়েছে। সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন
সমর্থিতদের উদ্যোগে কেএম জামালকে সভাপতি ও মোরশেদ আলম নাবুকে সাধারণ
সম্পাদক করে ৬৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য
রেদোয়ান আহমেদ সমর্থিতদের পক্ষ থেকে আব্দুস সামাদ আড়ৎদারকে সভাপতি করে ৮১
সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেদোয়ান আহমেদ সমর্থিতদের
দাবি, তাদের গঠিত কমিটিই বৈধ। তারা অভিযোগ করে বলেন, অপর কমিটি কোনো
নিয়মনীতি অনুসরণ না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে, যা
সম্পূর্ণ অবৈধ।
অন্যদিকে আতিকুল আলম শাওন সমর্থিত নেতারা দাবি করছেন,
বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সমর্থন নিয়েই তাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং
বাজার পরিচালনার দায়িত্ব তারাই পালন করবেন।
একই বাজারে দুইটি কমিটি
ঘোষণার ঘটনায় বাজারের খাজনা আদায়, শৃঙ্খলা রক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা
নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোন কমিটির নির্দেশনা মেনে
চলবেন তা নিয়ে তারা দোটানায় রয়েছেন।দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে
একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান চেয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক
দ্বন্দ্বের কারণে যেন বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
বাজার
পরিচালনা কমিটির সভাপতি কেএম জামাল বলেন, “বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক
আনিছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকায় তাকে বাদ দিয়ে কমিটি সংস্কার
করা হয়েছে। বাজারের সকল ব্যবসায়ীর মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা
হয়েছে। এখন একটি পক্ষ বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্য বহিরাগতদের নিয়ে নতুন কমিটি
ঘোষণা করেছে। এতে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। আমরা অতীতেও সুশৃঙ্খলভাবে
বাজার পরিচালনা করেছি, আগামীতেও সবাইকে নিয়ে বাজার পরিচালনা করব।”
এদিকে
বাজারের ইজারাদার খোরশেদ আলম বলেন, “সাড়ে ১৫ লাখ টাকায় বাজারের ইজারা
নিয়েছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। বাজার
কমিটির সভাপতি ইজারা তুলতে বাধা দিচ্ছেন। এতে ব্যবসায়ীদের মাঝেও আতঙ্ক
বিরাজ করছে।”
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশরাফুল হক
বলেন, “দুটি পক্ষ থেকে কমিটির তালিকা পেয়েছি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে
কাউকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। দুই পক্ষকে ডেকে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা
হবে।”
