সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪
৭ শ্রাবণ ১৪৩১
মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন অন্যতম সহযোগী ছিলেন আবুল হোসেন চৌধুরী
মোঃ হুমায়ুন কবির মানিকঃ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০২৪, ১২:১৩ এএম |


চলছিল ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, শত্রুর হাত থেকে মাতৃভূমি রক্ষার সংগ্রাম, দেশের ক্রান্তিকালে দেশপ্রেমে উদ্ধুব্ধ হয়ে যখন সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন, তখন অনেকের মত ঘর ছেড়ে যিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় এবং যিনি ছিলেন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সহযোগী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শ্রমিক নেতা ও স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন কাছের মানুষ, তিনি আর কেউ নন মৃত আবুল হোসেন চৌধুরী, কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলা শরীফপুর গ্রামের গর্বিত কৃতি সন্তান। তাঁর মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ইতিহাস শুনা যায় এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের মুখে। তারা জানায়, আবুল হোসেন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুনার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে পায়ে হেঁটে গিয়ে মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম বলেন দেশে যখন পাকিস্তানি হায়নাদের সাথে যুদ্ধ চলে তখন আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করি। যখন গ্রামের বাড়িতে আসতাম তখন আবুল হোসেন চৌধুরী ভাইকে দেখতাম মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন এবং আমার সাথে দেখা হলে বলতেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার ও পাকিস্তানিদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে দিকনির্দেশনা দিতেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জয়নাল আবদিন কাঞ্চন বলেন আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল ইসলাম আমি আমার বাবার মুখ থেকে আবুল হোসেন চৌধুরী সাহেবের অনেক কথা শুনেছি। আবুল হোসেন চৌধুরী সাহেব আমার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন এবং আমার বাবা পাকিস্তানি হায়েনাদের হাত থেকে দেশ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আবুল হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন চৌধুরী বলেন , আবুল হোসেন চৌধুরী আমার বড় ভাই। পাকিস্তানি হানাদের হাত থেকে দেশ বাঁচাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে ভাষণের ডাক দেন। দেশে যুদ্ধ শুরু হলো। যুদ্ধ  চলাকালে চট্টগ্রাম এ.কে খান টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক নেতা ছিলেন আমার বড় ভাই আবুল হোসেন চৌধুরী। তখন আমাকে মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করার জন্য সাহস দেয় ও উজ্জীবিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ চলে এবং দেশকে হায়নাদের হাত থেকে রক্ষা করি। সেই ডাকের সময় আমার ভাই আবুল হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম টেক্সটাইল মিলের সাধারণ সম্পাদক ও একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে শ্রমিকদের থেকে ৭ লাখ টাকা চাঁদা উঠিয়ে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে তোফায়েল আহমেদের সামনে বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন। আমরা পায়ে হেঁটে ভাইয়ের নেতৃত্বে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে যাই। পরে ১৯৭২ সালে আমার ভাই  বঙ্গবন্ধুকে লাকসাম জনসভায় আনেন। আমার ভাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালোবাসতেন এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে সব সময় জীবন বাজি রেখে সাড়া দিতেন। "আল্লাহ তাআলা আমার ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক"
স্থানীয় ওয়ালী খান সুমন বলেন, আমরা আমাদের বাবা চাচাদের মুখ থেকে আবুল হোসেন চৌধুরী সাহেবের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা শুনেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এলাকার তরুণ দামাল ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক উৎসাহ ও উজ্জীবিত করেতেন। দেশে যুদ্ধ চলাকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার কথাও শুনেছি। আজ একজন সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা সহায়কের পরিবার খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা ও দেশমাতা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আপনি এই সংগঠকের পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দিবেন ও হস্তক্ষেপ করবেন।
আবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে কামাল হোসেন চৌধুরী সোহাগ বলেন, আবুল হোসেন চৌধুরী ছিলেন আমার বাবা আমি তখন ছোট আমরা স্বপরিবারে তখন চট্টগ্রামে থাকতাম। আমি দেখেছি আমার বাবা অনেক শ্রমিকদের নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সহযোগিতা করতেন। এমনও দেখেছি আমার মায়ের অনেক গহনা বিক্রি করে, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন।  গহনা বিক্রি করতে মা বারণ করলে মা'কে বলতেন বঙ্গবন্ধু আমাদের নেতা, তিনি ডাক দিয়েছেন পাক বাহিনীদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। আগে দেশ বাঁচুক পরে তোমার গহনা হবে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলো ১৯৭১ সালে। এবং ১৯৭২ সালে আমার বাবার নেতৃত্বে  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  মুজিবুর রহমানকে তৎকালীন উপজেলা লাকসামে আনেন। এবং দেশ স্বাধীনের ৭ বছর পর ১৯৭৮ সালে বাবা চট্টগ্রামে মারা যান। পরে আমরা ১৯৭৯ সালে গ্রামের বাড়ি চলে আসি। বাবা মারা যাওয়ার ২ বছর পর ভোলার সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ আমাদের গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাবার কবর জিয়ারত করেন। আমি তখন বাবার কবরের পাশে ছিলাম। আমার পরিচয় নিলো আমাকে আদর করলেন এবং আমাকে ৫০০ টাকা দেন। আমি বাড়ি এসে মাকে বললাম  ঢাকা থেকে লোক এসেছে আব্বার কবর জিয়ারত করছেন উনি আমাকে ৫০০ টাকা দিছেন। মা বলল ওনাদের বাড়ির দিকে নিয়ে আসো পরে আমি গিয়ে উনাদের পাই নাই। আমি যেতে যেতে উনারা গাড়িতে উঠে চলে যায়।












সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোডে ৫ ঘন্টার রণক্ষেত্র, অন্তত ১শ জন হাসপাতালে ভর্তি
কুমিল্লার কোটবাড়ির রণক্ষেত্র দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
তারা যখনই বসবে আমরা রাজি আছি : আইনমন্ত্রী
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে কথা বলবেন আইনমন্ত্রী
উত্তরায় গুলিতে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী নিহত
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সব স্কুল–কলেজ অনির্দিষ্টকাল বন্ধ
নিজের লাশ কী করতে হবে, আগেই জানিয়েছিলেন আবু সাঈদ!
এইচএসসির বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা স্থগিত
এইচএসসির বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা স্থগিত
কুমিল্লার কোটবাড়ির রণক্ষেত্র দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২ | Developed By: i2soft