ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
ইতালিতে সাত ‘বাংলাদেশি’র পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে দূতাবাস
Published : Monday, 31 January, 2022 at 12:00 AM
ইতালিতে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত সাত কথিত বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে ওই দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস থেকে দেওয়া এক জরুরি নোটিশে জানানো হয়, ‘ইতালি কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে এখনও মৃত্যুবরণকারীদের কোনও পরিচয় পাওয়া যায়নি’।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার স্বার্থে পরিবারের সদস্যদের নিকটস্থ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় অথবা বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম, ইটালিতে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
ইতালীয় সূত্রের প্রাথমিক তথ্য মতে, অভিবাসন প্রত্যাশী ২৮৭ জনের মধ্যে ২৭৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে সাত জন মারা গিয়েছেন এবং অন্যরা মিশরীয় নাগরিক।
এদিকে, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিদল উদ্ধারকৃতদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুবরণকারীদের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে।
তারা হলেন-ইমরান হোসেন (মাদারীপুর), রতন/জয় (মাদারীপুর), সাফায়েত (মাদারীপুর), জহিরুল (মাদারীপুর), বাপ্পি (মাদারীপুর), সাজ্জাদ (সুনামগঞ্জ) এবং সাইফুল (কিশোরগঞ্জ)।
নোটিশে বলা হয়, মৃতদের সঙ্গে কোনও শনাক্তকারী ডকুমেন্ট না থাকায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। সকলের মৃতদেহ সরকারি খরচে বাংলাদেশে প্রেরণের জন্য মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
লাশ সিসিলি প্রদেশের এগ্রিজেন্তো এলাকায় অবস্থিত মর্গে রাখা আছে। লাশ ফেরত পাঠানো বা দাফন সম্পাদনের পূর্ব পর্যন্ত মর্গে রাখা হবে বলে জানা গেছে এবং মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
দীর্ঘক্ষণ তীব্র ঠাণ্ডায় থাকার ফলে হাইপোথার্মিয়াজনিত কারণে কথিত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের নিহত হওয়ার বিষয়ে অবহিত হওয়ার পর থেকেই ইতালিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। মর্গে লাশ পরিদর্শনের জন্য আদালতের অনুমতির বাধ্যবাধকতা থাকায় এখনও সরেজমিনে লাশগুলো দেখা সম্ভব হয়নি, তবে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে জীবিত উদ্ধারকৃতদের বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং দূতাবাসের প্রতিনিধিদল তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। ইতালীয় সূত্রের প্রাথমিক তথ্য মতে, অভিবাসন প্রত্যাশী ২৮৭ জনের মধ্যে ২৭৩ জন ছিলেন বাংলাদেশী, যাদের মধ্যে সাত জন মারা গিয়েছেন এবং অন্যরা মিশরীয় নাগরিক।
ইতালির কাতানিয়া ও পালেরমোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনারারি কনসালদের মাধ্যমেও বাংলাদেশ দূতাবাস প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধান এবং যথোপযুক্ত করণীয় নির্ধারণের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম কল্যাণ) মো. এরফানুল হকের নেতৃত্বে ও দূতাবাসের একজন ইতালিভাষী কর্মচারীসহ দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি দল দুর্ঘটনার পরদিনই (২৬ জানুয়ারি) লাম্পেডুসা দ্বীপে পৌঁছায়।
কাউন্সেলর হক ২৭ জানুয়ারি লাম্পেডুসার ডেপুটি মেয়র প্রেস্টিপিনো সালভাতোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দুর্ঘটনার বিষয়ে ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিকারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও করণীয় কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন এবং ইতালীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাসের নিবিড় সমন্বয়ের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
শুক্রবার কোস্টগার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে।
সংশ্লিষ্ট সকলকে অসাধু মানবপাচারকারী চক্র থেকে সাবধান থাকার আহ্বান জানানোর সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য দূতাবাস ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।