ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
দুই মাসে ২৭ খুন কুমিল্লায়
জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তথ্য
Published : Wednesday, 29 December, 2021 at 12:00 AM, Update: 29.12.2021 12:23:04 AM
দুই মাসে ২৭ খুন কুমিল্লায়জহির শান্ত ||
গেলো অক্টোবর ও নভেম্বর চলতি বছরের এ দুই মাসে কুমিল্লায় ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে কুমিল্লা সদর উপজেলাতেই খুন হয়েছেন ৭ জন। যে তালিকায় রয়েছে কুমিল্লার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর কাউন্সিলর সোহেলসহ দুইজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনাও। গত ২২ নভেম্বর নিজ কার্যালয়ের পাশের সিমেন্টের দোকানে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহকারী হরিপদ সাহা। এ দুইজনসহ নভেম্বর মাসে কুমিল্লা জেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মোট ১৩ জন। তার আগের মাস অক্টোবরে কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ১৪টি।
গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে কুমিল্লা সদর উপজেলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৪টি। এছাড়াও বুড়িচং উপজেলায় ২টি, দাউদকান্দি উপজেলায় ২টি, মেঘনা উপজেলায় ১টি, দেবীদ্বারে ৩টি এবং মুরাদনগর উপজেলাধীন বাঙ্গরা থানায় ১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
তার আগের মাস অক্টোবরে কুমিল্লা সদর উপজেলায় খুনের ঘটনা ঘটে ৩টি। এছাড়াও সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১টি, নাঙ্গলকোটে ১টি, চান্দিনায় ২টি, দাউদকান্দি উপজেলায় ৩টি, মেঘনা উপজেলায় ২টি, মুরাদনগরে ১টি, দেবীদ্বার উপজেলায় ১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটেছে।
আর আগের মাস সেপ্টেম্বরে কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল ১০টি। আর সব মিলিয়ে গত তিন মাসে কুমিল্লায় মোট হত্যকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা সূত্রে জানা যায়, নভেম্বর মাসে কুমিল্লায় মোট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ৪২৩ টি। এর মধ্যে ১৩ টি খুন ছাড়াও ডাকাতি হয়েছে ২টি, দাঙ্গা ৩টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, ধর্ষণ ৮টি। এছাড়াও অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ৩৮০টি।
জেলায় অক্টোবরে মোট অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো ৪১৯টি। এর মধ্যে ১৪টি খুন ছাড়াও ১টি ডাকাতি, একটি অপহরণ, ১৮টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ৫টি ধর্ষণের অপরাধ রয়েছে। ওই মাসে অন্যান্য অপরাধ সংঘঠিত হয় ৩৮০টি।
সভায় কুমিল্লায় অপরাধ নির্মূল, যানজট নিরসন, ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে অভিযান এবং মাদক নির্মূলে করণীয় বিষয়ে বৃহৎ আলোচনা হয়। এসময় এ সকল সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
কুমিল্লা শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখল মুক্ত করার বিষয়ে কুমিল্লা সিটিকর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কুমিল্লা নগরীকে যানজটমুক্ত করতে ফুটপাতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে। এজন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দীর্ঘ বিরতি নয়- ক’দিন পরপর অভিযান চালানো হলে একসময় নগরীর ফুটপাত দখল মুক্ত হবে এবং যানজট কমে আসবে।

সহিংসতামুক্ত নির্বাচন হওয়ায় প্রশংসা:
এদিকে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠার মাঝে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো সংঘাতমুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত বক্তাগণ। তারা প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রসংশা করে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, নির্বাচন ঘিরে মানুষের মাঝে একটা চাপা আতঙ্ক ছিলো। কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কুমিল্লায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সংঘাতমুক্ত নির্বাচন হয়েছে। মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। এটা সম্ভব হয়েছে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।


র‌্যাবের অভিযানে ‘চাঁদাবাজ’ আটক প্রসঙ্গে:
সম্প্রতি কুমিল্লায়র বিভিন্ন স্ট্যান্ড থেকে র‌্যাবের অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমেই কথা বলেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল রানা। তার সাথে একমত পোষণ করেন বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার।
ইউএনও সোহেল রানা বলেন, ‘ব্রাহ্মণপাড়ায় বৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগে র‌্যাব তিনজনকে আটক করেছে। গত ১০দিন তারা কারাগারে আছে। প্রথম দফায় তাদের জামিন হয়নি। র‌্যাবের অভিযোগ টাকা বেশি আদায় করায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে। অথচ আমরা এখনো তাদেরকে ফি নির্ধারণ করে দেইনি- তাহলে র‌্যাব কিভাবে বুঝলো বেশি টাকা আদায় হচ্ছে ? পরবর্তী অভিযানে র‌্যাব যদি সমন্বয় করে তাহলে হয়তো এ নিয়ে আর ‘প্রবলেম’ হবে না।’
বুড়িচং উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার বলেন, ‘বুড়িচং থেকেও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অথচ তারা স্ট্যান্ডের শ্রমিক। বিষয়টি একটু বিবেচনায় নেয়া দরকার।’
এ প্রসঙ্গে র‌্যাব-১১ কুমিল্লার উপপরিচালক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, ‘সড়কগুলোতে জিপির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে প্রতিদিন আমরা অসংখ্য ফোন পাই। সে প্রেক্ষিতে আমাদের একটি টিম টানা এক সপ্তাহ এসব সড়কে চলাচল করে অতিক্তির চাঁদা আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযানে নামি এবং আলামতসহ তাদেরকে আটক করি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই।’