ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কলিনদ্রেসের জোড়ায় গোল উৎসব করে সেমিফাইনালে আবাহনী
Published : Saturday, 11 December, 2021 at 12:00 AM
কলিনদ্রেসের জোড়ায় গোল উৎসব করে সেমিফাইনালে আবাহনীপ্রথম দুই ম্যাচে নিজের ছায়া হয়েছিলেন দানিয়েল কলিনদ্রেস। চেষ্টা করেও কিছু করতে পারছিলেন না কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড। তবে নকআউট পর্বে এসে ঠিকই জ্বলে উঠলেন তিনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা এই ফরোয়ার্ডের চমৎকার পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আবাহনী। গোল উৎসব করে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালেও পৌঁছে গেছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। কলিনদ্রেস করেছেন জোড়া গোল। আর একবার করে লক্ষ্যভেদ নাবীব নেওয়াজ জীবন ও ইমন মাহমুদের।
আজ (শুক্রবার) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের একাদশেই ভরসা রেখেছিল আবাহনী। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে নেমে বল দখলের পাশপাশি আক্রমণে দাপট দেখিয়েছে তারা। ৪-২-৩-১ ছকে একের পর এক আক্রমণ গড়ে প্রতিপক্ষকে তটস্থ করে রাখছিল। কিন্তু প্রথমার্ধে ৪-৫-১ ছকে খেলা সেনাবাহিনীর রক্ষণব্যুহ ভেদ করে এগিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ছিল।
আগের দুই ম্যাচে রাফায়েল অগাস্তো ছিলেন মধ্যমণি। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধে কিছুটা নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। ঠিকমতো ফাইনাল পাস দেওয়া কিংবা লক্ষ্যে শট নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল এই ব্রাজিলিয়ানের। কারণও আছে। সেনাবাহিনী নিজেদের অর্ধে থেকে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থেকেছে! কড়া মার্কিংয়ে রেখেছে অগাস্তো-কলিনদ্রেসদের। তারপরও কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আবাহনীর প্রথমার্ধের গোলে অগাস্তোরই অবদান। তার চমৎকার পাস থেকেই আকাশি-নীলদের এগিয়ে নেন কলিনন্দ্রেস। যদিও এই গোল পেতে অপেক্ষা করতে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।
অথচ ম্যাচ ঘড়ির তৃতীয় মিনিটে আবাহনী এগিয়ে যেতে পারতো। একজনকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দোরিয়েন্তনের জোরালো শট গোলকিপার আলমগীর হোসেন প্রতিহত করে দলকে ম্যাচে রাখেন। ৫ মিনিট পর নিজেদের ভুলে আবাহনী একটু হলেই গোল হজম করতে বসেছিল। টুটুল হোসেন বাদশা ভুল পাসে বল তুলে দেন শাহরিয়ার ইমনের পায়ে, এই ফরোয়ার্ড একটু জায়গা করে নিয়ে জোরালো শট নিলেও ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়।
২১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান দোরিয়েন্তন ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। অগাস্তোর ক্রসে এই স্ট্রাইকারের ব্যাক ভলি উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ৩৩ মিনিটে কলিনদ্রেস বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। চার মিনিট পর অগাস্তোর কাটব্যাক থেকে রাকিব ফাঁকায় পেয়েও শট নিতে পারেননি।
অনেক সুযোগ নষ্টের পর অবশেষে প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে সফল আবাহনী। ৪৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে অগাস্তোর ক্রসে কলিনদ্রেস বক্সের ভেতরে বল রিসিভ করে দেখেশুনে ডান পায়ের কোনাকোনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন।
বিরতির পর দোরিয়েন্তনের জায়গায় জীবন মাঠে নামেন। তাতে আবাহনীর আক্রমণে ধার আরও বেড়ে যায়। আকাশি-নীলদের সাঁড়াশি আক্রমণে দিশেহারা সেনাবাহিনী। এই অর্ধে আর রক্ষণ অটুট রাখতে পারেনি তারা। ৩ গোল করে আবাহনী বড় জয়ের পথে হেঁটেছে।
৫৭ মিনিটে কলিনদ্রেসের ক্রসে জীবন বক্সের ভেতরে ফাঁকায় পেয়েও বল গোলকিপারের হাতে তুলে দেন। ৬৭ মিনিটে জীবন আর ভুল করেননি। চোট থেকে ফিরে এসে প্রথম গোল পেলেন তিনি। অগাস্তোর থ্রুতে বাঁ দিক দিয়ে কলিনদ্রেসের ক্রসে ৬ গজের মধ্য থেকে ডাইভিং হেডে জাল কাঁপান।
তিন মিনিট পর আবাহনীর আবার গোল উদযাপন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি কিকে কলিনদ্রেস জাল কাঁপান। ৭৬ মিনিটে ইমন চতুর্থ গোল করে সেনাবাহিনীকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন। রাকিব হোসেনের লবে ইমন হেডে স্কোরলাইন ৪-০ করেন।
এমনিতেই আশা একরকম শেষ হয়ে গিয়েছিল সেনাবাহিনীর। তার ওপর ৮১ মিনিটে রাকিবকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন হুমায়ুন কবির খান। শেষ ৯ মিনিট তাই ১০ জন নিয়ে খেলেছে সেনাবাহিনী।
এই কারণেই কিনা কলিনদ্রেস ও অগাস্তোকে উঠিয়ে নেন কোচ মারিও লেমস। তাতে অবশ্য স্কোরলাইনে কোনও হেরফের হয়নি। গোল উৎসব করেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।