
২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলছে তখন। মাঠের ক্রিকেটে ব্যস্ত ছিলেন বিসমাহ মারুফ। মাঠের বাইরে তার চেয়েও যেন বড় তারকা হয়ে উঠেছিল যেন ছয় মাস বয়সী ফাতিমা। টুর্নামেন্টজুড়ে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল পাকিস্তান অধিনায়কের কন্যাশিশু। হাস্যোজ্জ্বল সেসব ছবি এখনও ঘুরে বেড়ায় ভার্চুয়াল জগতে। মা হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে মাঠে ফিরে, বিশ্বকাপের মঞ্চে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রশংসায় ভাসেন বিসমাহ।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে বিসমাহর মতো ফেরার গল্প নেই। তেমন কিছুর সুযোগই যে ছিল না! সেই চিত্র বদলানোর উদ্যোগে এবার নিয়েছে বিসিবি। জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটাররা এখন থেকে পাবেন পূর্ণ পারিশ্রমিকসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি।
বোর্ডের এক ভার্চুয়াল সভায় বৃহস্পতিবার মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বিসিবি পরিচালক ও নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন, ছুটির কাঠামো ঠিক করা হবে শিগগির।
“মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে শিগগিরই আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা আসবে। আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। এখন আমরা সময় নষ্ট না করে দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করতে চাই। বোর্ড সভায় পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
“তবে ছুটি কতদিন হবে, সেটি নিয়ে একটু আলোচনা বাকি রয়েছে। কেউ কেউ বলছে চার মাসের ছুটির কথা, অনেকে আবার ছয় মাসের ছুটির পক্ষে। তবে যেটাই হোক, খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যাবে। পরবর্তী বোর্ড সভায় এটি অনুমোদন হবে।”
সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন সময়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার সুরাইয়া আজমিন। গত মে মাসে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেও বোর্ডের সাড়া না পাওয়ার কথা জানান তিনি।
জাতীয় দলের সাবেক টপ-অর্ডার ব্যাটার সানজিদা ইসলামও করেন একই অভিযোগ। গত বছর প্রথম সন্তান জন্মদানের পর ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়ে পরে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে আর খেলায় ফিরতে পারেননি তিনি। এই সময়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা বলেন সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান আম্পায়ার সাথিরা জাকির জেসিও।
তবে সামনে আর কোনো ক্রিকেটার যেন এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে চায় বিসিবি। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে সুরাইয়ার আবেদনে সাড়া দিয়েছে বিসিবি। রফিকুল জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন গ্রহণ করে ২৭ বছর বয়সী পেসারকে চার মাসের পারিশ্রমিকের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের আর্থিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যের কথাই বললেন বিসিবির নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান।
“আমাদের লক্ষ্য ক্রিকেটারদের মধ্যে এই ভরসা আনা যে, মা হওয়া মানেই ক্যারিয়ার শেষ নয়। পে রোলে থাকা ক্রিকেটাররা এই ছুটির সময়ে তাদের সকল বেতন-ভাতা পেয়ে যাবে। এটি এক ধরনের স্বস্তির বিষয় হতে পারে তাদের জন্য।
“ছুটির সময়টা কাটিয়ে বাচ্চা লালন-পালন করে যেন আবার সতেজ মনে ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারে, সেই সুযোগটাই আমরা দিতে চাই। মাতৃত্ব একটা অনেক বড় গর্বের বিষয়। আমরা এমন সময়ে ক্রিকেটারদের দিকটিও দেখব।”
মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি আইসিসির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী ক্রিকেটারদের সবধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনাধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রফিকুল।
