জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেছিলেন ঢাকার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম। পরবর্তীতে ঘুসের এক লাখ টাকা গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আসাদুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের কাটানিসার এলাকায়।
জানা গেছে, আটক সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলাম এলাকায় জসিম নামে পরিচিত। কাটানিসার গ্রামে তার তিন তলা বাড়ি, শহরের মনোহরপুরে দোকান, রেইসকোর্সে বাড়ি রয়েছে। এছাড়া কিছুদিন আগে তিনি কাটানিসার এলাকায় তিন রাস্তার মাথায় সড়কের পাশে ৮০ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেন।
দুদক জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম লালবাগ থানার চর-কামরাঙ্গী মৌজায় বিভিন্ন দাগে থাকা ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন। ওই জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির সীমানা পৃথকীকরণ এবং স্কেচম্যাপ তৈরির জন্য গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন তিনি।
কিন্তু প্রায় ছয় মাস ধরে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। একপর্যায়ে তাকে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
পরে আসাদুল ইসলাম জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। বিষয়টি দুদককে জানিয়ে ঘুস গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে আটকের অনুরোধ জানান মনিরুল ইসলাম।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে এক লাখ টাকা ঘুস গ্রহণের সময় সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তার বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা দায়ের এবং আদালতে সোপর্দ করার আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
