আলমগীর হোসেন।।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন,জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজ দেশের মূল্যবান সম্পদ। যুবকদের মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালীপূর্ব আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এইসব কথা বলেন।
দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন এই বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করেছে। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মো. ফারুক আহাম্মদ, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পিটার চৌধুরীসহ সরকারী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে যুবসমাজের সৃজনশীলতা বিকাশে তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তা দিতে সরকার '৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল' ঘোষণা করেছে।
সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো 'স্টার্টআপ বাজেট' বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে ইতোমধ্যে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এইগুলো হচ্ছে,
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ,দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ,ঋণ ও আর্থিক সহায়তা,সম্ভাবনাময় খাতের প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, 'ইমপ্যাক্ট' (ওগচঅঈঞ) প্রকল্প,জাতীয় যুব পুরস্কার ও অনুদান।
খন্দকার মারুফ বলেন, 'স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান'- এমনই বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশের যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসংশনীয় ভূমিকা পালন করেছে।
ড.খন্দকার মারুফ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজকে সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি লাভ করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাদের কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সকল জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যুবসমাজকে ধ্বংস করতে মাদকদ্রব্য বৈধ পণ্যের মতো শহর,গ্রাম,পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে গোটা দেশ মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। যুবসমাজের বড় একটি অংশ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে, ফলে দেশে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। নতুন যোগ হয়েছে কিশোর গ্যাং। কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীরা সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এদের দুর্বৃত্তায়নে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাদকের ছোবল ও কিশোর গ্যাংয়ের রাহাজানি দমন করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন জনগণকে অগ্রণী ভুমিকা নিতে হবে।
বিএনপি নেতা ড.খন্দকার মারুফ হোসেন একটি উন্নত সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভুমিকা রাখতে যুবসমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
