নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৪৮.০৪ শতাশ।বোর্ডের আওতাধীন ৬ টি জেলা থেকেপরীক্ষায় মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৮ হাজার ৪১৫জন। অংশগ্রহণকারী ৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন।
শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল মোতাবেক এবার এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শতভাগ পাশ করেছে ৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং কোন পরীক্ষার্থী পাশ করেনি ১৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এইচএস পরীক্ষায় বিগত বছরের চেয়ে পাশের হার কিছুটা কমরছে। গত বছর (২০২৫ সালে) কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৪৮.৮৬ শতাংশ। এবার পাশের হার ৪৮.০৪ শতাংশ।
শনিবর সকাল ১১ টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান- এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক পরীক্ষার ফলাফল সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ইআইআইএন ব্যবহার করে বোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং পরীক্ষার্থীরা মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে নিজেদের পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারছে।কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরিসংখ্যান মোতাবেক এবারও এইচএসসি পরীক্ষায় ছাত্রদের চেয়ে মেয়েদের ফলাফল ভাল হয়েছে।
১৫ কলেজে পাস করেনি কেউ; ৪ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ:
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বোর্ডের অধীন ৪৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র চারটিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।
শনিবার বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের দেখা যায়, শতভাগ পাস করা চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি কুমিল্লা জেলার এবং একটি ফেনী জেলার। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেঘনা উপজেলার মোজাফফর আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ এবং ফেনী সদর উপজেলার ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
এই চার প্রতিষ্ঠানে মোট ১৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৬ জন। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ জন এবং ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৬১ জনের মধ্যে ৪৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর কুমিল্লার ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনজন জিপিএ-৫ পেলেও মোজাফফর আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
অন্যদিকে, শূন্য পাসের ১৫ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী ও নোয়াখালী জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি, কুমিল্লার তিনটি, চাঁদপুরের দুটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি, ফেনীর দুটি এবং নোয়াখালীর একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে কুমিল্লা লালমাইয়ের সুরজ মেমোরিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, চৌদ্দগ্রামের বগৈর গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্রাহ্মণপাড়ার প্রফেসর সেকান্দার আলী ভূঁইয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদরের ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ, তোরাবগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মমতাজ উদ্দিন আলোকিত কলেজ, লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কমলনগরের ফজুমিরহাট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, চাঁদপুর পৌর শহীদ জাভেদ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ড. এম. শামসুল হক মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নবীনগর বিরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফেনীর সদরের বেগম শামসুন নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিকন মডেল কলেজ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আপার মডেল কলেজের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
