
কুমিল্লার লাকসামের নাওটি স্টেশনের আউটারে ঢাকা অভিমুখী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউনলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রেনটির যাত্রীরা।
এদিকেট্রেনটির লোকোমাস্টারের অভিযোগ, রেললাইনে মেরামতের কাজ চললেও তাকে সেটা জানানো হয়নি।ট্রেনটির লোকোমাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, লাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে ‘লাইন ক্লিয়ারের’ সংকেত নিয়েই তিনি লাকসাম স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
“আমাকে কোনো কশন অর্ডার, কোনো কিছুর রেস্ট্রিকশন দেওয়া হয় নাই। লাইনে কাজ হচ্ছে বা কাজ চলমান- আপনি দেখে শুনে যাইয়েন, এই ধরণের কোনো মাস্টারও বলে নাই, কোনো স্টেশন মাস্টারও বলে নাই, এমনকি গার্ডও বলে নাই।”
বিষয়টি কেউ জানেও না দাবি করে তিনি বলেন, “আমার অথরিটি কন্ট্রোল বা এই যে এরা কাজ করতেছে লাইনে, এটা কেউ জানে না।”
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি আমার নরমাল স্পিডে আসতেছি, হঠাৎ করে আমার সামনে, ১০০ মিটার দূরে দেখি লাল ব্যানার ফ্ল্যাগ।
“তা দেখে আমি হুইসেল বাজাইতেছি, আমার গাড়ি দাঁড় করানোর জন্য আমার যত চেষ্টা করছি। গাড়ি দাঁড়াইতে দাঁড়াইতে সামনে আইসা দেখি লাইন বিচ্ছিন্ন, এরা কাজ করতেছে, লাইন আউটৃ”
এসময় ট্রেনের গতি কত ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেকশন নরমাল স্পিড বা ৪০-৫০ কিলোমিটার ছিল।
মেরামত কাজের কথা জানা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন কমিউটার ট্রেনটিকে লাইন ক্লিয়ারেন্স পেপার দেওয়া নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেনও।
তিনি বলেন, “রেলপথের মেরামতের কাজ করা হবে এমন কোনো মেসেজ আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি কন্ট্রোল রুম থেকেও আমরা এমন কোনো তথ্য পাইনি।
“যে কারণে আমরা কর্ণফুলী কমিউটারকে লাইন ক্লিয়ারেন্স দিয়েছি।পরে শুনলাম নাওটি রেল স্টেশনের আউটারে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লাকসাম জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুকের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মিলেনি।
এদিকে, নাঙ্গলকোটে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে আসছে উদ্ধারকারী ট্রেন।
রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের (পূর্বাঞ্চল) অধীন ফেনী অঞ্চলের সহকারীরেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের (পূর্বাঞ্চল) অধীন ফেনী অঞ্চল সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীল বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে। দু' টি কারণে হতে পারে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি ডিপার্টমেন্টেরই দায় থাকতে পারে। ট্রাফিক কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং। এক হচ্ছে লাল পতাকা দেখানোর পরও ট্রেন থামাতে পারেননি, অন্যদিকে গত কাল থেকে রেল লাইনের কাজ চলছে তারা অফিসিয়ালি কাগজপত্রে কোন নির্দেশনা পাঠায় নি।
কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটিকে লাইন ক্লিয়ারেন্স পেপার দিয়েছিলেন নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেন। তিনি জানান, রেলপথের মেরামতের কাজ করা হবে এমন কোন মেসেজ আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি কন্ট্রোল রুম থেকেও আমরা এমন কোন তথ্য পাইনি। যে কারণে আমরা কর্ণফুলী কমিউটারকে লাইন ক্লিয়ারেন্স দিয়েছি। পরে শুনলাম নাওটি রেল স্টেশনের আউটারে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।
