শাহীন আলম ।।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিষাক্ত মদপানে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাসহ দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ( ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মৃত্যু শয্যায় রয়েছে। এদিকে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে 'স্ট্রোকে মৃত্যু' হয়েছে বলে প্রচারণা করে নিহতদের স্বজনরা। পরে বৃহস্পতিবার ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর দিবাগত রাতে দেবিদ্বার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুনাইঘর উত্তর পাড়ার ধান্নারপাড় এলাকা এই ঘটনা ঘটে।
নিহত হলেন, ধান্নারপাড়ের ভূঁইয়া বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মো. সালাউদ্দিন (৩২) এবং উপজেলার হাপুড়খাড়া গ্রামের মো. আলম মিয়ার ছেলে মো. বাসার খাঁন (৩১)।
ঘটনায় অসুস্থরা হলেন, পৌরসভার ধান্নারপাড় এলাকার প্রয়াত গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. আতিক (৩৩), হাকিম ওরফে শীবল মিয়ার ছেলে শাহীন শাহ (২৮) এবং প্রয়াত নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ নাঈম (২৮)। অসুস্থ অপর যুবকের নাম জানা না গেলেও তিনি উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর রাতে ধান্নারপাড় এলাকায় মামাতো ভাই মো. নাঈমের ঘরে অন্য সহযোগীদের নিয়ে মদ পান করেন বাসার খাঁন ও সালাউদ্দিনসহ অন্যরা। মদ পানের পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরের দিন ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) জুম্মার নামাজ শেষে স্থানীয়রা জানতে পারেন সালাউদ্দিন নিজ ঘরে বমি করছেন এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২৪ অক্টোবর সালাউদ্দিনের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
তবে সালাউদ্দিনের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'হৃদরোগে আক্রান্ত (স্ট্রোক) হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন' বলে প্রচার করা হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক বার্তাও পোস্ট দেন।
অন্যদিকে, মামার বাড়িতে মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়া বাসার খাঁনকেও প্রথমে দেবিদ্বার ও পরে কুমিল্লা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সালাউদ্দিন ও বাসার খাঁনের মৃত্যুর খবরে ভয় পেয়ে অন্যান্য অসুস্থরা গোপনে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদেরও ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, "এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে আগে কেউ জানায়নি বা কোনো অভিযোগ দেয়নি। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঘটনাটির সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।।
