ফারুক আহাম্মদ,ব্রাহ্মণপাড়াঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রোপা আমন ধানে উপকারী ও অপকারী পোকার উপস্থিতি শনাক্তকরণের জন্য একযোগে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার (১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বিলে রোপা আমন ধানের জমিতে পোকার উপস্থিতি শনাক্তকরণের জন্য একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় কৃষকরা এসব আলোক ফাঁদ স্থাপন করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আবাদ হওয়া রূপা আমনধানের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও দমনে ইতোমধ্যে ৮টি ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব ব্লকের বিল গুলোতে আলোক ফাঁদ স্থাপন সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। উপজেলা সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া বিলের আমন চাষি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে আমাদের এলাকায় আলোক ফাঁদ পদ্ধতিটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আগে এ ফাঁদ স্থাপনের জন্য সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেল প্রয়োজন হতো। কিন্তু বর্তমানে চার্জার বাল্বের সাহায্যে সহজেই ফাঁদ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সহজেই ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা যাচ্ছে। পরে শনাক্তকৃত ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে কীভাবে ধানখেত রক্ষা করা যায় ওই ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামের কৃষক শানু মিয়া বলেন, কৃষি অফিসের সহায়তায় জমিতে আলোক ফাঁদ তৈরি করে পোকা দমনে অনেকটাই সফলতা পেয়েছি। একই সঙ্গে আলোক ফাঁদের সাহায্যে ক্ষতিকারক পোকা সম্পর্কে অবগত হয়ে এসব পোকা দমনে অল্প পরিমাণ কীটনাশক প্রয়োগ করেছি। এতে গত বছরের তুলনায় এ বছর কীটনাশক খরচ অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাসিমা আক্তার বলেন, রোপা আমনখেতে আলোক ফাঁদ স্থাপন করে ক্ষতিকর পোকামাকড় চিহ্নিতকরণসহ পোকা দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমার ব্লকের বেশ কয়েকটি কৃষি জমিতে ইতোমধ্যে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। ক্ষতিকর পোকা দমনে এ পদ্ধতিটি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন বলেন, মূলত আলোক ফাঁদ একটি পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম। এর মাধ্যমে জমিতে উপকারী ও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি জানা যায়। ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্তের মাধ্যমে কীটনাশক স্প্রে করার প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কিছুটা কমে আসে। ফলে আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন ক্ষতিকর পোকা দমন হবে, অন্যদিকে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন, আলোর ফাঁদ ধানের পোকা দমনে একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এটি তৈরিতে বৈদ্যুতিক বাল্ব ও সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেল বা চার্জার বাল্ব ব্যবহার করা হয়। ধানখেত থেকে ১০০ মিটার দূরে বাঁশ বা কাঠের খুঁটির সাহায্যে মাটি থেকে ২-৩ ফুট ওপরে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে এর নিচে একটি পাত্রে ডিটারজেন্ট পাউডার অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রেখে ফাঁদটি তৈরি করা হয়। সন্ধ্যার পর এই ফাঁদের আলোয় আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পোকামাকড় এসে পাত্রের পানিতে পড়ে মারা যায়। এভাবে ফসলের খেতে কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস করা যায়। এ ছাড়াও উপকারী ও অপকারী পোকা শনাক্তকরণ সম্ভব হয় এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
