
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আব্দুর রহমান নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ওই যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের ভাদুয়াপাড়া শাকিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পরিচালক ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান ময়নামতি ইউনিয়নের নামতলা গ্রামের চুরু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি বিদ্যালয়ের সামনের এলাকা ও ক্যাম্পাসেও তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করতেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য একাধিকবার সতর্ক করে। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক করেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁদের। প্রায় এক বছর ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক গাজী জহিরুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, ঘটনার কয়েক দিন আগে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে এক ছাত্রীকে অশোভন কথাবার্তা বলে উত্ত্যক্ত করেন আব্দুর রহমান। এতে ওই ছাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়লে বিদ্যালয়ের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটক করেন। পরে তাঁকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে বুড়িচং থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্তকে এর আগেও পুলিশ আটক করেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মধ্যস্থতায় তিনি ছাড়া পান বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটকে রাখার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া বলেন, “ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে বিদ্যালয়ের পরিচালক ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি গাজী জহিরুল ইসলাম অভিযুক্ত আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। পরে পুলিশ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াত ও নির্বিঘ্নে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা এড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
