ডিজিটাল যোগাযোগের দ্রুতগতির যুগে হাতে লেখা চিঠির আবেগ ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চিঠি লিখন উৎসব’।
বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলেজের ধর্মপুর ডিগ্রি শাখায় ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ ম্যুরালসংলগ্ন আমবাগানে এ উৎসবের আয়োজন করে কুমিল্লা পোস্টাল ডিভিশন।
‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক: সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ভূঞা ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। এ সময় কলেজ প্রশাসনের সদস্য, ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবে শিক্ষার্থীরা প্রিয়জনের উদ্দেশে চিঠি লেখেন। বিশেষ ডাকসেবার আওতায় মাত্র ১২ থেকে ২২ টাকায় চিঠি পাঠানোর সুযোগও পান তাঁরা। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় মেডিকেল ক্যাম্প, বিনা মূল্যে কফি বিতরণ এবং ডাকটিকিট ও ডাক বিভাগের বিভিন্ন সামগ্রীর প্রদর্শনী।
প্রদর্শনীতে ১ থেকে ২০ টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও স্মারক ডাকটিকিট স্থান পায়। তরুণ প্রজন্মকে ডাকটিকিটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে ধারণা দেওয়াও ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উৎসবে চিঠি লিখতে এসে আবেগঘন অনুভূতির কথা জানান শিক্ষার্থীরা। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী প্রান্ত বড়ুয়া আদর বলেন, “চিঠির মধ্যে অন্য রকম এক আবেগ লুকিয়ে আছে। চিঠি লিখতে ও সংগ্রহ করতে পছন্দ করি। আজকের এই দিনে আমি আমার মায়ের কাছে এবং প্রবাসে জন্ম নেওয়া ভাগনের জন্য চিঠি লিখেছি।”
আয়োজকদের এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রিয়জনের প্রতি অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি হাতে লেখা চিঠির ঐতিহ্য ও ডাকসেবা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের যুগেও চিঠির আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেই বার্তাই উঠে এসেছে উৎসবে।
