
বল সেন্টারে। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে স্বাগতিক অগসবুর্গের খেলোয়াড়েরা কিক-অফের জন্য প্রস্তুত। গ্যালারিভর্তি দর্শকের চোখ মাঠে, টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার চলছে। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই বল নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করতে শুরু করেন অগসবুর্গের খেলোয়াড়েরা। কিন্তু পরের দৃশ্যটি যে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবে, তা কি কেউ কল্পনা করতে পেরেছিলেন?
লাইভ সম্প্রচারের পর্দায় দৃশ্য বদলাতেই দেখা গেল, বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যয়ার বক্স ছেড়ে বাইরে চলে এসেছেন। সতীর্থ লুইস দিয়াজের কাছ থেকে পাওয়া সাদামাটা একটি ব্যাকপাস পেয়ে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু বিপদ তখনই ঘটে যায়। সামনে এগিয়ে আসা অগসবুর্গের ফরোয়ার্ড রবিন ফেলহলারের পিঠে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে। মুহূর্তের মধ্যেই বলটি ন্যয়ারকে পেছনে ফেলে সামনে চলে যায়।
৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ন্যয়ারের সেই ভুলের সুযোগ নিতে একটুও দেরি করেননি ফেলহলার। সামনে পড়ে থাকা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে তখন প্রায় ফাঁকা গোলপোস্ট। গোলরক্ষককে পেছনে ফেলে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন অগসবুর্গের এই ফরোয়ার্ড।
গোল! অথচ ম্যাচের ঘড়িতে তখন সবে পাঁচ সেকেন্ড!
মাঠে উপস্থিত দর্শক থেকে শুরু করে টেলিভিশনের সামনে বসে থাকা ফুটবলপ্রেমী-এমন অবিশ্বাস্য সূচনা দেখে বিস্মিত হওয়ারই কথা। ম্যাচের শুরুতেই এমন গোল শুধু প্রতিপক্ষকে চমকে দেয়নি, তৈরি করেছে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন এক ইতিহাসও। ইউরোপের পাঁচটি প্রধান লিগের মধ্যে এটি সবচেয়ে দ্রুততম গোলের রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নেয়।
এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ইতালির সিরি আ-তে খেলা এসি মিলানের উইঙ্গার রাফায়েল লিয়াও। ২০২০-২১ মৌসুমে সাসসুওলোর বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার মাত্র ৬ দশমিক ৭৬ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোল এত দিন ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দ্রুততম গোল হিসেবে আলোচনায় ছিল। এবার পাঁচ সেকেন্ডের এই গোল সেই রেকর্ডকে পেছনে ফেলার দাবি নিয়ে হাজির হলো।
ফুটবলে গোল করতে কখনো কখনো লাগে নিখুঁত পাস, দুর্দান্ত ড্রিবলিং কিংবা অসাধারণ কোনো ফিনিশিং। আবার কখনো প্রতিপক্ষের একটি ছোট ভুলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের গল্প। অগসবুর্গের এই গোল যেন তারই উদাহরণ। ম্যাচের প্রথম মুহূর্তে ন্যয়ারের ভুল, ফেলহলারের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং ফাঁকা জালে বল পাঠানোর নিখুঁত সমন্বয়—সব মিলিয়ে কয়েক সেকেন্ডেই লেখা হলো ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।
একটি গোল, মাত্র পাঁচ সেকেন্ড; অথচ সেই মুহূর্তের স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় থাকবে দীর্ঘদিন।
