শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
সিসি ফুটেজ ধরে তদন্ত
প্রধান সন্দেহভাজন গ্রেফতার !
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ এএম আপডেট: ১০.১০.২০২৬ ২:১৫ এএম |



প্রধান সন্দেহভাজন গ্রেফতার !
ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় কুমিল্লা। ইতোমধ্যে বুধবার মধ্যরাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের কুমিল্লা নুরজাহান হোটেলের সামনে সিসি ক্যামেরায় তাজমিনে হাঁটা চলাফেরার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আরো বেশি চাঞ্চল্য তৈরি করেছে এই ঘটনায়। সেখানকার ফুটেজ ছাড়াও তাজমিনকে বহন করার সিএনজিটি আরো যেসব এলাকা দিয়ে গিয়েছে তারও তিনটি ক্লিপ পাওয়া গিয়েছে। জানা গেছে, লালমাই পার হয়ে বিজরা দিয়ে শিকারি পাড়া হয়ে জগৎপুর সড়কে আসে সিএনজিটি।
পুলিশের দাবি, তাজমিন হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন চালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 
শুক্রবার বিকালে লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সিএনজি চালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
তিনি জানান, এই ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছে ভিকটিমের বাবা। সংক্ষেপে এজাহারের বিষয়ে তিনি জানান, মেয়েটি ৪ তারিখে বাসা থেকে বের হয়ে কক্সবাজার যায়। বুধবার রাতে ২ টা ৫৮ মিনিটে তার বাবার মোবাইলে লাইভ লোকেশন পাঠানো হয় এবং ম্যাসেজ দেয়া হয় 'আমাকে এসে নিয়ে যাও'। এরপর সকালে এসে তিনি লাশ শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনার খবর প্রচারের পর থেকে নানান প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে। সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েটি কেনইবা একা একা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবে। সে কক্সবাজার কারো সাথে গিয়েছিল কিনা, তার বান্ধবীর পরিচয় কি, কিংবা রাত ১২টার পর সিএনজিতে উঠে পৌনে ৩টা নাগাদ প্রায় ৪ ঘন্টা সে সচেতন অবস্থায় সিএনজিতে ছিল নাকি অচেতন অবস্থায় ছিল। এছাড়াও আরো প্রশ্ন রয়েছে মেয়েটির সাথে জগতপুরের ঐ সড়কের ধানক্ষেতে আসলেই কি হয়েছিল, তার মৃত্যুর কারণ কি। 
জানা গেছে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিএনজিটিকে সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজন সিএনজি চালক আটকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান শুরু হয়। সিএনজি চালক সুমনকে ধরতে তার তার শ্বশুর,  স্ত্রী,  ভগ্নিপতিসহ চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। 
শুক্রবার বিকেলে যেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছিলো লালমাই উপজেলার জগতপুরে গিয়ে দেখা গেছে উৎসুক মানুষের ভিড়। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেছেন কেউ কেউ। 
তারা সাংবাদিকদের কে জানান,  ওই এলাকায় এমন একটি ঘটনা হতে পারে তা আশ্চর্যজনক। তবে এমন ঘটনা যেন আর কারো সাথে না হয় - এজন্য ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া খুব দ্রুত এই মামলার তদন্ত করে পুলিশকে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে হবে। 
এদিকে শুক্রবার যশোরের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় তাজমিনকে। এ সময় তার মায়ের আত্মচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। সন্তান হত্যার বিচার চান বাবা। 
কাউকে সন্দেহ হয় কিনা বা কেউ ঘটনাটি ঘটিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ফরিদা বিদ্যায়তনের নিহত শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের পিতা আবদুল আলীম বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার মেয়েকে সনাক্ত করার পরই পুলিশের তদন্তে  জানতে পেরেছি মেয়ের কি হয়েছে। আমার মেয়ের লাশটা আমি পেয়েছি। তবে এর আগে পরে কোন ব্যক্তি আমার মেয়েকে  নিয়েছে বা কোন ব্যক্তি ঘটাইছে কাউকে আমি জানিনা।  অজ্ঞাত নামা এতটুকু জানি। আমি ন্যায় বিচার চাই।  শুধু আমার মেয়ের জন্য নয় রাষ্ট্রের যত মেয়ে আছে তাদের বাবা হিসেবে। আমি ন্যায় বিচার চাই যাতে রাষ্ট্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়। সকলের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। 
গতকাল শুক্রবার ৯ অক্টোবর যশোরের চুড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলার গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তাজমিনের পিতা আবদুল আলীম। 
ফরিদা বিদ্যাতয়নের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমীনের মাতা গতকাল যশোরের চুড়ামনকাটির ছাতিয়ানতলার গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের জানান, আমার মেয়েটা আমরা যদি টের পেতাম বাচানোর অনেক চেষ্টা করতাম। অনেক বুজাইছি। সর্বশেষ তাজমিনের সাথে আগের দিন ৪টায়ও কথা হয়েছে। ও যে বান্ধবীর বাসায় গেছে ওকে জিজ্ঞেস করেছি তোর বান্ধবীর নাম কি, বান্ধবীর মায়ের নাম কি, বান্ধবীর বাপের নাম কি আমাকে বল। আমি ঔ বান্ধবীর বাসায় গিয়ে নিয়ে আসি। ওর বান্ধবীরা খুব খারাপ। বান্ধবীরা খুব খারাপ। এজন্য আমি আমার মেয়েকে স্কুলে ছয়মাস পাঠাইনি। যেন আমার মেয়ে আমার সামনে থাকুক। কোনো মা বাবা যেন সন্তান আর না নেয়।
পুলিশ জানায়,  সপ্তম শ্রেণীর এই কিশোরীকে হত্যার বিস্তারিত কারণ সংবাদ সম্মেলনে। এর আগে তার বাবা তাজনিম হত্যার অভিযোগে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  
পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত চার অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। এর পর আট অক্টোবর ভোর বেলায় লালমাই জগতপুর এলাকার ধান ক্ষেতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


 












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২