ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে চলে গেলেন ছোট ভাইও। শৈশব থেকে কর্মজীবন—সবখানেই যে দুই ভাইয়ের গভীর সখ্য ছিল, শেষ বিদ্যায়েও যেন তার ব্যতিক্রম হলো না। একসঙ্গে জানাজা শেষে দুই ভাইকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের হুড়ারপাড় গ্রাম ঈদগাহ ময়দানে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মারা যাওয়া দুই ভাই হলেন চান্দলা ইউনিয়নের হুড়ারপাড় গ্রামের মৃত আশ্কর আলীর ছেলে আব্দুল জলিল মিয়া (৭৫) ও জয়নাল আবেদীন জুনু (৭০)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বড় ভাই আব্দুল জলিল। তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
হাসপাতালে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে তা সহ্য করতে পারেননি ছোট ভাই জয়নাল আবেদীন। খবরটি শোনার পরপরই তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর ঠিক আধা ঘণ্টার মাথায় নিজ বাড়িতে তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
দুই ভাইয়ের এই কাকতালীয় মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মতো একনজর দেখতে মৃতদের বাড়িতে ভিড় জমায় সর্বস্তরের মানুষ।
মরহুমদের ভাতিজা জসীমউদ্দীন বলেন, “আমার দুই চাচার মধ্যে আজীবন গভীর মেলবন্ধন ছিল। জীবনের শুরুতে তাঁরা দুজন একসঙ্গেই আদমজী জুট মিলে চাকরি করতেন। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আবার একসঙ্গেই বাড়িতে ফিরে আসেন। মৃত্যুর ক্ষেত্রেও তাঁদের আলাদা করা গেল না।”
মৃত্যুকালে বড় ভাই আব্দুল জলিল স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। আর ছোট ভাই জয়নাল আবেদীন স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
এ বিষয়ে চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মুরাদ বলেন, “জীবদ্দশায় দুই ভাইয়ের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক ছিল। একই দিনে আধঘণ্টার ব্যবধানে তাঁদের এমন প্রস্থান সত্যিই বিরল ও হৃদয়বিদারক। তাঁদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
