চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: চৌদ্দগ্রামে নরমাল ডেলিভারিতে চিকিৎসকের অবহেলায় মাথায় আঘাত লেগে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের দায় নিরুপনের লক্ষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি এন্ড অবস্ বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোঃ ফারজানা খন্দকারকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। বৃহস্পতিবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রশিদ আহমেদ চৌধুরী এ কমিটি গঠন করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, গত শনিবার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল সড়কের আল নুর হাসপাতালে ডা: খাইরুন্নাহার কেয়ার তত্বাবধানে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুস্করনী গ্রামের প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারকে স্বাভাবিক প্রসব করানোর সময় নবজাতকের মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হলে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরই জেরে গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রসূতির স্বজনরা চিকিৎসক কেয়ার ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুললে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রচার করলে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর এক মন্তব্য করেন ডা. কেয়া।
নিজের ওই পোস্টে ডা: কেয়া লেখেন, "আপনারা একটা কাজ করবেন এখন থেকে ডেলিভারির ব্যথা ঊঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন অথবা ব্যথা কেনো উঠছে না, পানি কেনো ভাঙ্গছে এই যাবতীয় সিদ্ধান্ত সাংবাদিক থেকে নিয়ে উনাকেই বলবেন চিকিৎসাটা করতে"। ডা. কেয়ার এই বক্তব্যে পুরো জেলায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে উপরোক্ত মন্তব্যের বিষয়ে গত বুধবার দুপুরে ওই চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ফেসবুক পোস্টের কথা স্বীকার করে বলেন, 'যা লিখেছি আমার ফেসবুকে আছে।' ঐখানে দেখে নিন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, আলোচিত ঘটনায় সাংবাদিকদের বিষয়ে মন্তব্যে আমরাও বিব্রত। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
